আপনি গুপ্ত আওয়ামী লীগ কিনা, উত্তরে যা জানালেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে উপস্থিত হয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সম্প্রতি এই সংসদ সদস্য আওয়ামী ঘেষা কিছু বক্তব্য দিয়েছেন- এ প্রসঙ্গে খালেদ মুহিউদ্দীন রুমিনের কাছে জানতে চান তিনি গুপ্ত আওয়ামী লীগ কিনা। উত্তরে তিনি বলেন, না আমি আওয়ামী লীগ করি না; অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না।
খালেদ: আমি এ প্রসঙ্গে একটি প্রশ্নটা করব যখন দর্শকরাও আসলে কাছাকাছি বিষয়ে কথা বলছেন- যে গত এক বছর ধরে যারা আপনার কথা পছন্দ করছেন; তাদের বড় একটি অংশ আবার এ অভিযোগও তুলছেন যে আপনি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ ধরে রাখার কাজ করছেন। মানে আপনি আসলে একজন গুপ্ত আওয়ামী লীগার। আপনার মনের মধ্যে আওয়ামী লীগটাই আছে- অনেকে এরকম বলছেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন।
রুমিন: আমি যদি তাদের সব অভিযোগ সত্য বলিয়া ধরিয়া লই যে আমি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখেছি। আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ বাঁচিয়ে রাখেছি। তাহলে সম্ভবত আমি একটা লাইফ সেভিং মেশিনের মতন- বুঝছেন? যখন বিএনপি আইসিইউতে ঢুকে- আমি বিএনপিকে বাঁচাই; যখন আওয়ামী লীগ আইসিইউতে ঢুকে আমি আওয়ামী লীগকে বাঁচাই।
খালেদ: হইলেন লাইফ সেভিং মেশিন- আপনি তো সব সময় বিএনপি করতেন সেজন্য আপনি বিএনপিকে বাঁচানো চেষ্টা করেছেন। আপনি তো আওয়ামী লীগ করেন নাই। নাকি গোপনে আওয়ামী লীগ করেন।
রুমিন: না আমি আওয়ামী লীগ করি না; অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না। কিন্তু আমি আপনাকে কিন্তু এ উত্তরটা দিয়েছি যে যখন আপনার প্রতিপক্ষের হাত থেকে তলোয়ার পড়বে তখন তাকে আঘাত করা সবচেয়ে বড় কাপুরুষের কাজ। আমি আপনাকে তখনই বীর বলব যখন আপনার প্রতিপক্ষ সে তার সর্বোচ্চ শক্তির অবস্থানে থাকা অবস্থায় আঘাত করবেন। আওয়ামী লীগ যখন তার সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থায় ছিল তখন আজকে যারা কমেন্ট করছেন- তাদের নিয়ে কিছু বলা কি ঠিক হবে?
খালেদ: আপনার বক্তব্যগুলি আওয়ামী লীগের পক্ষে এখন যাচ্ছে- কারণ হচ্ছে যে আপনি আসলে যার প্রতি অন্যায় হচ্ছে তার পক্ষেই কথা বলছেন ব্যাপারটা কি এরকম
রুমিন: সিম্পল একদম একদম ভেরি সিম্পল।
খালেদ: কিন্তু একটা প্রশ্ন তো আসেই যে আওয়ামী লীগ এত বছর ধরে যদি এত অন্যায় করতে পারল তার বিরুদ্ধে আসলে আমরা ন্যায় কেন করব- মানে অনেকেই এ প্রশ্ন আমাকেও করে। মানে অন্যায়কে তো অন্যায় দিয়ে প্রতিবাদ করা দরকার।
রুমিন: ঘৃণার পালটা ঘৃণা যখন আপনি শুরু করবেন- তখন ঘৃণার চাষের বাইরে আপনি কিছু দেখবেন না। মানে অ্যান আই ফর অ্যান আই মেইক্স দ্য হোল ওয়ার্ল্ড ব্লাইন্ড। আমি সেটা করব না তো। আপনি যে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেটার- আপনি আওয়ামী লীগকে সরাইছেন কেন- কারণ আওয়ামী লীগ খারাপ ছিল। আপনি যদি সেটাই আবার করেন তাহলে আওয়ামী লীগের দোষ কী ছিল। আপনি যদি সেই মিথ্যা মামলা দেন, আপনি যদি সেই গায়েব মামলা দেন, আপনি যদি শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এই বয়সে খুনের মামলা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন; বিরোধী দলের নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) হেনস্থা করা হয়েছিল- তখন সেটা যদি আমাদের কষ্ট লেগে থাকে তাহলে আজকে যখন আবার কাউকে না কাউকে রাজনীতি করার কারণে এভাবে হেনস্থা করছে কেউ না কেউ। তখন তো আমার সেটার প্রতিবাদ করতে হবে- না হলে তো আমার আগে প্রতিবাদটা লেজিটিমেট হয় না। তার মানে কী- যখন আমি ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদ বেছে নেই; তার মানে আমি আসলে ন্যায়টাকে সমর্থন করি না; আমি ব্যক্তির চর্চাটা করতে চাই না খালেদ ভাই।






