ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ সরকারের

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম

মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ সরকারের

মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আবেগ বা অনুমানের ওপর নির্ভর না করে প্রামাণ্য দলিল, সরকারি-সামরিক নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে এই তালিকা তৈরি করা হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের কৌশল নির্ধারণে বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিচ্ছিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা না করে বহুমুখী যাচাই-বাছাই এবং গবেষণালব্ধ উপাত্তের সমন্বয়ে একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় আলোচকরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় দ্রুত প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাক্ষ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য গ্রাম থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রশাসন, গবেষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। রণাঙ্গনের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং নারীদের তথ্যও যথাযথভাবে যাচাই ও সংরক্ষণের তাগিদ দেন তাঁরা। তালিকাভুক্ত প্রতিটি নামের পেছনের দলিল ও তথ্যের উৎস সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণায় তা নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, দীর্ঘকাল ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়ম ও অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। স্বাধীনতার পরপরই প্রশাসনিক কাঠামো স্বাভাবিক না থাকায় কোনো তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই অনুমাননির্ভর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, বিগত কয়েক দশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীরা লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে স্বাধীনতার ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এই অবস্থার অবসান ঘটিয়ে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করতে মন্ত্রণালয় অঙ্গীকারবদ্ধ। মন্ত্রী বলেন, ‘সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, শহীদদের তালিকা ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা উপস্থাপন করতে পারলেই ইতিহাসবিদদের কাছে ইতিহাস রচনার জন্য প্রামাণ্য তথ্য তুলে দেওয়া সম্ভব হবে; নইলে আমরাই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাব।’

সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তির অবকাশ থাকা উচিত নয়। প্রকৃত বীরদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার এবং বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আবদুল হাই সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) জামিল ডি আহসান বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান বীর উত্তম, সিপিবির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান ও নইম জাহাঙ্গীরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন