ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল অবিলম্বে ঘোষণাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আজ বুধবার সন্ধ্যায় এ দাবিতে স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি। শাখা সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মুহা. মুহিউদ্দিন খানের নেতৃত্বে শিবিরের নেতাকর্মীরা স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ঘোষিত সময় অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন, ভবিষ্যতে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্থায়ী নির্বাচন-রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
শিবিরের নেতারা বলেন, বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ শেষ হতে এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ বা সময়সূচি জানানো হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে তা শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।এদিন উপাচার্যের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ ও নেতৃত্ব বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ডাকসু শুধু ছাত্ররাজনীতির নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্র নয়; শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সার্বিক কল্যাণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ছাত্রশিবিরের দাবি, ২০২৫ সালে ডাকসু পুনর্গঠনের পর শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক সেমিনার আয়োজন, আন্তর্জাতিক জার্নাল ও ই-রিসোর্সে প্রবেশাধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম, পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন, মেডিকেল সেবার সম্প্রসারণ, হলের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার মতো উদ্যোগ রয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব কার্যক্রম একটি সক্রিয় ডাকসুর ইতিবাচক ভূমিকার উদাহরণ।
স্মারকলিপি জমা দিয়ে মুহিউদ্দিন খান বলেন, ডাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বাভাবিক ও চিরাচরিত প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ডাকসু কবে হবে, কীভাবে হবে এবং এর বাজেট কোথায়’- এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে শাহবাগ থানায় হামলাসহ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়েও কথা বলেন শিবির সভাপতি। তিনি বলেন, এসব ঘটনার বিচার দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
বার্তা বাজার/এআর






