১৫ আগস্ট। পঁচাত্তরের এই দিনে সপরিবারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা পালিয়ে থাকায় ১৫ আগস্ট ঘিরে নেই কোনো কর্মসূচি। বিশ্লেষকের মতে, ইতিহাস থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষা নিতে পারেনি কোনো রাজনৈতিক দল।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্বর এক হত্যাকাণ্ড। রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য।
প্রাণ হারান বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেলসহ ১৬ জন। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
অর্ধশত বছর পর ১৫ আগস্ট এখন নানা চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের বৃত্তে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটিও এখন ভিন্ন চেহারায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাতিল হয়েছে জাতীয় শোক দিবস ও সাধারণ ছুটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, সিপিবি মিলে যে বাকশাল হয়েছিল, তাদের সমর্থকরা বলছেন যে এটা ষড়যন্ত্র। আর যারা এর বেনিফিশিয়ারি বা যারা এই ঘটনাটি ঘটালেন, তারা বলছেন এটা অনিবার্য। কেন? কারণ এ ছাড়া উপায় ছিল না। একটা অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রেজিম চেঞ্জের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। যখন এই ধরনের পরিস্থিতি হয়, তখন অস্বাভাবিকভাবে রেজিম চেঞ্জ হয়, যেটা আমরা ’৭৫-এ দেখেছি, যেটা আমরা ২০২৪-এও দেখেছি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, কোনো রাজনৈতিক দলই ইতিহাস থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষা নেয়নি। দলগুলো সমালোচনা মেনে নিতে পারে না বলেই বাধাগ্রস্ত হয় গণতন্ত্র।
মহিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আগের ধারাবাহিকতায় চলছে। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল এখানে তারা একেকটা ধর্ম এবং তারা সেই ধর্মটা পালন করে। সেখানে তাদের নেতা হচ্ছেন ঈশ্বরতুল্য। তিনি ভুল করতে পারেন না। আজ পর্যন্ত আমি কোনো রাজনৈতিক দলকে দেখিনি, যারা ক্ষমতায় গেছে আজ পর্যন্ত কেউ বলেনি যে আমি ভুল একটা করেছি, আজ পর্যন্ত কেউ বলে নাই। আমাদের এই কালচারে এটা নেই। কারণ এটা তাদের কাছে ধর্ম এবং তাদের সমালোচনা করলে তারা মনে করে, লোকটা ব্লাসফেমি করেছে।
একাত্তর, পঁচাত্তর, নব্বই, এক-এগারো এবং সবশেষ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পালাবদলের পরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি দেশের রাজনীতিতে। এমনটাই মনে করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।






