জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, জনগণের কষ্টার্জিত টাকা লুটে বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ বানানোর ষড়যন্ত্র আর সফল হবে না। গত ১৭ মাসের কর্মকাণ্ডে মানুষ তাদের আসল রূপ দেখে ফেলেছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুরের পীরগাছা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর-৪ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ‘শাপলা কলি’ মার্কার সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
লুটেরা ও বিদেশি নাগরিকদের মনোনয়ন নিয়ে সতর্কতা
জনসভায় আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, জাতীয়তাবাদের স্লোগান দিলেও কিছু দল বিদেশি নাগরিক ও ব্যাংক লুটেরাদের নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি বলেন, “এই বিদেশি নাগরিকরা নির্বাচিত হলে আবারও জনগণের টাকা ঋণের নামে লুট করে বিদেশে পাচার করবে। তারা দেশে মাফিয়া রাজত্ব কায়েম করতে চায়। কিন্তু জনগন আর সেই সুযোগ দেবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধীরা বলছে তাদের অনেক পরিকল্পনা আছে। কিন্তু গত ১৭ মাসে দেশজুড়ে চাঁদাবাজি আর লুটপাটের মধ্য দিয়ে মানুষ তাদের সেই ‘প্ল্যান’ দেখে ফেলেছে। তাই নতুন করে তাদের পরিকল্পনা দেখার আর সময় নেই।
কার্ডের নামে হয়রানি বনাম স্মার্ট নাগরিক সেবা
বিরোধী দলগুলোর প্রতিশ্রুত বিভিন্ন কার্ড (কৃষক, শ্রমিক, ফ্যামিলি কার্ড) ব্যবস্থাকে ‘হয়রানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, “প্রতিটি কার্ডের জন্য আলাদা দপ্তরে ঘোরানোর পরিকল্পনা আসলে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা। এর বিপরীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব সেবা আনার ঘোষণা দিয়েছে। আমরা স্মার্ট এনআইডি কার্ডের মাধ্যমেই সব নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চাই।”
শাড়ি-লুঙ্গির রাজনীতি ও পরিবারতন্ত্রের অবসান
রংপুর-৪ আসনের ভোটারদের সচেতন করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “এই এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে পরিবারতন্ত্র কায়েম করে রাখা হয়েছে। ভোটের সময় শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে মানুষকে বোকা বানানো হয়, যাতে আপনারা ও আপনাদের পরবর্তী প্রজন্ম সারাজীবন তাদের দান-খয়রাতের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তারা কর্মসংস্থান বা সমৃদ্ধি চায় না।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আপনারা যদি ১১ দলীয় ঐক্যকে নির্বাচিত করেন, আমরা ঘরে ঘরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। উত্তরবঙ্গের মানুষকে আর কারও দয়ার পাত্র হতে হবে না।”
নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
জনসভায় ‘শাপলা কলি’ মার্কায় ভোট চেয়ে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব ও প্রার্থী আখতার হোসেন, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা আব্দুল হালিম এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।






