বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের সম্পদ যারা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, প্রয়োজনে তাদের ‘পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে’ সেই টাকা বের করে আনা হবে এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়া এসিএম উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও বেকারদের কর্মসংস্থান
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছর দেশের মানুষ মজলুম ছিল। দুর্নীতিবাজরা দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করতে চেয়েছিল। আগামীতে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে আর কাউকে দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না। তিনি যুবসমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ গড়বে যুবকরাই। আমরা বেকার যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই, যাতে তারা নিজেদের যোগ্যতায় গর্বের সাথে দেশ গড়তে পারে।”
জুলাই বিপ্লব ও চব্বিশের চেতনা
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, “বীরেরা কখনো মরে না, তারা জীবন দিয়ে আমাদের ঋণী করে যায়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান না হলে ছাব্বিশের স্বপ্ন দেখা যেত না। যারা চব্বিশের এই অর্জনকে অস্বীকার করতে চায়, তাদের জন্য লাল কার্ড অপেক্ষা করছে।” এ সময় তিনি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মাঘ মাসেই যদি মাথা এত গরম হয়, তবে চৈত্র মাসে কী হবে? মাথা ঠান্ডা রাখুন।”
বিএনপির কড়া সমালোচনা করলেন অলি আহমদ
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। বক্তব্যে তিনি বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন।
অলি আহমদ বলেন, “একসময় আমি ও জিয়াউর রহমান মিলে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু আজকের বিএনপি আর জিয়া বা খালেদা জিয়ার বিএনপি নেই। বর্তমান বিএনপি এখন ‘ভাড়াটিয়া ও চাঁদাবাজদের’ দখলে চলে গেছে। তাদের চাঁদাবাজি ও অনিয়মের কারণেই আমি দল ত্যাগ করেছিলাম। কারণ, তাদের সাথে থেকে আমি দোজখে যেতে চাই না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের পাচারকৃত টাকা দেশে থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ হতো। এখন আওয়ামী লীগের শূন্যস্থানে বিএনপি সেই একই কাজ করার চেষ্টা করছে। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, “একটি ভুল ভোটের কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়তে পারে। তাই সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিন।”
অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা হামিদ হোসেন আজাদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এবং পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।






