আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশ রাইফেলস বা ‘বিডিআর’-এর ঐতিহাসিক নাম ও ইউনিফর্ম পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে। একইসঙ্গে পিলখানায় নৃশংস সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে বিএনপির সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটি সাবেক সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের সম্মানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিডিআরের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ সালে পিলখানা ট্র্যাজেডির পর তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার সুপরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম ও পরিচয় মুছে ফেলেছিল। এমনকি বাহিনীটির ঐতিহ্যবাহী পোশাকের রংও বদলে দেওয়া হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আল্লাহর রহমতে ও জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিডিআরের সেই হারানো নাম ও গৌরবোজ্জ্বল ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে।”
পিলখানা ট্র্যাজেডি ও বিশেষ দিবস ঘোষণা
সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে জাতীয়ভাবে পালনের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যাতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’, ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ কিংবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সেনা আইন সংস্কার ও ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পে’
সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার আশ্বাস দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন এবং সেনা আইনের কিছু বিধিমালা সংস্কারের সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ী হলে সাবেক ও বর্তমান সেনা সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে, যারা এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করবেন।”
এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পে’ (One Rank One Pay) পদ্ধতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি। তারেক রহমান নিশ্চিত করেন যে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি কার্যকর করা হবে।






