ঢাকা   সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন: বিএনপি বনাম বিদ্রোহীর লড়াই

Authorনিউজ রুম

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৯ এএম

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন: বিএনপি বনাম বিদ্রোহীর লড়াই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম মুন্সিগঞ্জ। এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলার তিনটি আসনে এখনো দলটির আধিপত্য আছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলেরই বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শীর্ষ নেতাদের বহিষ্কার এবং এর প্রতিবাদে দেড় শতাধিক পদধারী নেতার গণপদত্যাগে জেলা বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

ছয় উপজেলার মুন্সিগঞ্জ জেলায় সংসদীয় আসন তিনটি। শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে মুন্সিগঞ্জ-১, লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী নিয়ে মুন্সিগঞ্জ-২ এবং সদর ও গজারিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন। এই তিন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৯ জন প্রার্থী।

মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নামেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্র থেকে মহিউদ্দিন আহমেদসহ জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের অন্তত ১০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এই বহিষ্কারের প্রতিবাদে সদর ও গজারিয়া উপজেলা, পৌরসভা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অন্তত দেড় শতাধিক নেতা সংবাদ সম্মেলন করে একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

স্থানীয় রাজনীতিতে এই সংকটের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের আবেগ ও পারিবারিক ঐতিহ্য। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও এই আসনের পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হাইয়ের ছোট ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ। বিগত বছরগুলোতে হামলা-মামলা উপেক্ষা করে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। ফলে সাধারণ কর্মীদের একটি বড় অংশের মধ্যে তার প্রতি আলাদা আনুগত্য রয়েছে।

এখন একদিকে দলের প্রতীক ‘ধানের শীষ’, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতার ‘ফুটবল’ মার্কা–এই নিয়ে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও উদ্বেগ কাজ করছে।

এদিকে, ভোটের প্রচারে দুই প্রার্থীর সমর্থকরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, যা কোথাও কোথাও সংঘাতের রূপ নিচ্ছে। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার চরাঞ্চল মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুইজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এমন সহিংসতায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে মোট প্রার্থী ৮ জন। কামরুজ্জামান রতন ও মহিউদ্দিন আহমেদ ছাড়াও আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি নূর হোসাইন নূরানী, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান দিদার, কমিউনিস্ট পার্টির শেখ মো. কামাল হোসেন ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মোহাম্মদ শিমুল। তবে মূল লড়াই রতন ও মহিউদ্দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাঁচ লাখ ৯ হাজার ৪৬৭ জন ভোটারের এই আসনে শেষ পর্যন্ত কার জয় হয়, তা নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!