ঢাকা   রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

রাত পোহালেই ভোট বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি

Authorনিউজ রুম

আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

রাত পোহালেই ভোট বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি
ছবি : রেডিও বার্তা

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত জাতীয় নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, মাঠপর্যায়ের কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট—এবারের নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনা প্রবল। সবকিছু ঠিক থাকলে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে একই সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই—এমন মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

কেন বিএনপি এগিয়ে?

গত কয়েক বছরে সরকারবিরোধী আন্দোলন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রশ্নে জনগণের ক্ষোভ—সব মিলিয়ে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিএনপি নির্বাচনের আগে যে প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—

  • অবাধ ও নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
  • নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন
  • দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মধ্যবিত্ত–নিম্নবিত্তের জীবনমান উন্নয়ন
  • বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ
  • মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সংস্কার

দলটির শীর্ষ নেতারা বারবার বলেছেন, “এইবার ক্ষমতায় গেলে প্রতিশ্রুতি ভুলে যাওয়ার রাজনীতি হবে না”। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে জনগণের বড় একটি অংশ এখনো সন্দিহান—নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা বাস্তবায়ন হবে?

জামায়াতে ইসলামী: নীরব কিন্তু শক্ত অবস্থান

এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলকভাবে কম প্রচার–প্রচারণা করলেও মাঠপর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে দলটির নিবেদিত ভোটব্যাংক এখনো অটুট।

জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে—

  • দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শাসন
  • ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  • সামাজিক বৈষম্য হ্রাস ও নৈতিক শিক্ষা জোরদার
  • রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বন্ধ ও স্বচ্ছ প্রশাসন

জামায়াত নেতাদের দাবি, তারা ক্ষমতায় গেলে “ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, নীতিনির্ভর রাষ্ট্র পরিচালনা” করবে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—রাষ্ট্র পরিচালনায় দলটির অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কীভাবে সামলানো হবে?

ক্ষমতায় এলে কী করবে—জনগণের বড় প্রশ্ন

বিএনপি বা জামায়াত—যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ একটাই:
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কি আবারও ভুলে যাওয়া হবে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দেয়। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক সময়ই জনস্বার্থ পেছনে পড়ে যায়, সামনে আসে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হিসাব।

বিশ্লেষকরা বলছেন:-

  • প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা স্পষ্ট করতে হবে
  • সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে
  • রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে

ভোটের ফলাফল কী বার্তা দেবে?

এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের নয়, এটি একটি জনমত পরীক্ষাও। মানুষ জানতে চায়—

  • তারা কি আবারও হতাশ হবে?
  • নাকি সত্যিই একটি জবাবদিহিমূলক সরকার পাবে?

ভোটের ফলাফল যাই হোক, আগামী দিনের রাজনীতি নির্ভর করবে জনগণের সচেতনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর।

রাত পোহালেই পরিষ্কার হবে—বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!