ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা, ভোটের আগের শেষ নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন।
বুধবার বিভিন্ন সময়ে সারা দেশের জেলায় জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিলসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সরঞ্জাম ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত নির্বাচন কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাত পোহালেই শুরু হবে ভোট। ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন।
বরিশাল: ভোটের আগে বরিশালের সদর উপজেলা পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন এলাকা ও ১০ টি ইউনিয়নের কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশালের সংসদীয় আসনগুলোতেও উপজেলা পরিষদ থেকে সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৮৩৩টি ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা সদস্যদের মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এসব সরঞ্জাম কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাদারীপুর: জেলায় তিনটি আসনের কেন্দ্রগুলোতেও পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। এসব সরঞ্জামের নিরাপত্তায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে ২৩৭ কেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। জেলার চারটি উপজেলা পরিষদ থেকে একযোগে এসব সরঞ্জাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ নির্বাচনে দায়িত্বরতরা বুঝিয়ে দেন প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে।

চুয়াডাঙ্গা: জেলার দুটি সংসদীয় আসনে ৩৫৪টি কেন্দ্রে নির্বাচনী উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
কিশোরগঞ্জ: জেলার সদর উপজেলায় মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই প্রতিটি কেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালি, দলীয় ভোটের জন্য সাদা ব্যালট পেপার, গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট পেপার, ভোটার তালিকাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

মাগুরা: নির্বাচন উপলক্ষে জেলার দুইটি সংসদীয় আসনে ৩০১টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে একত্রিত হয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ সবধরনের নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝে নিয়েছেন।
পিরোজপুর: একইভাবে পিরোজপুরের সাতটি উপজেলার তিনটি সংসদীয় আসনের ৪১৮ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এসব সামগ্রী কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি নির্বাচনী আসনের ৮০৫টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের পরিচয় ও যাবতীয় তথ্য নিশ্চিত করে সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার, সিলসহ নির্বাচনী সরঞ্জামগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা কড়া নিরাপত্তায় সেসব সরঞ্জাম ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যান।
নারায়ণগঞ্জ: জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রেও নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও সরঞ্জাম নিয়ে যান নির্বাচন কর্মকর্তারা।

রংপুর: রংপুর জেলার ৩৩টি আসনের ৪ হাজার ৭৫০টি কেন্দ্রের ২৭ হাজার ১৮৩টি বুথে ভোটের জন্য সব সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। বিকালে মধ্যেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
গাইবান্ধা: জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৬৭৫ কেন্দ্র রয়েছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। উপজেলাগুলো থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে নিয়ে ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ভোট ও গণভোটের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। সকাল থেকে জেলার ১৭টি উপজেলার উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চৌদ্দশ ৯১টি ভোটকেন্দ্রে এসব ভোটের সামগ্রী পাঠানো হয়।
এসব নির্বাচনী সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে-ব্যালট বক্স, সিল, কালি, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, হেসিয়ান বড় ও ছোট ব্যাগ, গানি ব্যাগসহ অন্যান্য অপরিহার্য উপকরণ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ ও বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার: জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছানোর সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসকের দেওয়া তথ্য মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দু’টি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। এর মধ্যে সাদা ব্যালটটি, সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। আর গোলাপি ব্যালট হবে গণভোটের। এ ছাড়া ভোট কেন্দ্রে পাঠানো হয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র, জামানত বই, রশিদ বই, আচরণ বিধিমালা, প্রতীকের পোস্টারসহ বিভিন্ন ধরনের ফরমসহ প্রায় ২০ রকমের সরঞ্জাম। প্রিজাইডিং অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশ, আনসারের একটি করে টিম কেন্দ্রগুলোতে এসব সরঞ্জাম নিয়ে যান।
সাতক্ষীরা: সদর উপজেলাসহ জেলার সাতটি উপজেলা থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও ব্যালট পেপার ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে এসব সামগ্রী হস্তান্তর করেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। দুর্গম উপকূলীয় এলাকা বিশেষ করে শ্যামনগর ও আশাশুনির নদীবেষ্টিত কেন্দ্রগুলোর জন্য বিশেষ নৌ-যানের ব্যবস্থা করা হয়।






