ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন আসনে হামলা, ভোটারদের বাধা দেওয়া ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের সই করা অভিযোগে নোয়াখালী-১, ভোলা-১, পটুয়াখালী-১ ও নরসিংদী-৫ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, নোয়াখালী-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলামের ওপর মহুরগঞ্জ এলাকায় হামলা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার সঙ্গে থাকা তিনজন কর্মীও আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া, মহুরগঞ্জ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে হাতপাখার ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সোনাইমুড়ি উপজেলার দেওড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হাতপাখার এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর বিএনপি কর্তৃক হামলার অভিযোগও করা হয়েছে।
ভোলা-১ আসনের দিঘোলদী ইউনিয়নে প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট ও একটি কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টের ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়েছেন এবং হাতপাখার এজেন্টদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনী এসে তাদের মুক্ত করে। সকাল ১০টা থেকে হাতপাখার ভোটারদের ভোট দেওয়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
একই আসনের ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাংকেরহাট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা হাতপাখার মহিলা ভোটারদের জোরপূর্বক দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-১ আসনের মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমগাছি ও মাদবখালী ইউনিয়নের সব কেন্দ্র থেকে হাতপাখার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নরসিংদী-৫ আসনের রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের রায়পুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে হাতপাখার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে প্রশাসনের সামনেই বিএনপি জাল ভোট দিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
বাহেরবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হাতপাখার ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং প্রিজাইডিং অফিসার বিএনপি সন্ত্রাসীদের বুথের ভেতরে ঢুকিয়ে ভোট চুরিতে সহযোগিতা করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। রাধানগর ইউনিয়নেও হাতপাখার সমর্থকদের ভোট দিতে বাধা ও জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।






