ঢাকা   রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

এই সরকারকে আর কোনো ছাড় নয় “প্রয়োজনে জীবন দিবো, তবুও মাথা নত করবো না!” সরকারকে হাসনাতের চরম হুঁশিয়ারি!

Authorহাসিব মিয়া | স্টাফ রিপোর্টার

আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২১ এএম

<span class="nhu-kicker" style="--nhu-color:#ff0000;">এই সরকারকে আর কোনো ছাড় নয়</span><span class="nhu-sep">•</span> “প্রয়োজনে জীবন দিবো, তবুও মাথা নত করবো না!” সরকারকে হাসনাতের চরম হুঁশিয়ারি!
হাসনাত ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে লাইভে বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন তরুণ রাজনীতিবিদ হাসনাত। তিনি বলেন, প্রিয় দেশবাসী, আমাদের দেশ যেদিকে যাচ্ছে, আমাদের বাংলাদেশ যে পথে হাঁটছে, আমরা যেদিকে যাচ্ছি কোন ইতিবাচক বার্তা আমাদেরকে দিচ্ছে না।

আমাদের যারা আত্মত্যাগ দিয়েছিল তারা যে কারণে আত্মত্যাগ করেছিল রাষ্ট্রের স্ট্রাকচারাল রিফরমেশনের জন্য। কিন্তু দিন শেষে রাষ্ট্রের স্ট্রাকচারাল রিফরমেশন তো হচ্ছে না, আমরা সেটা পারছি না এটা আমাদের ফেইলিয়র। আমরা বারবার বলে যাচ্ছি এবং বিএনপি থেকে প্রত্যাশা আরও বেশি ছিল। তবে থ্যাংক ইউ বিএনপি, আপনারা এই রং মুভগুলা নিচ্ছেন এবং জনগণ আপনাদেরকে কিভাবে দেখে আপনারা মানুষের কাছে যান এবং আপনারা যে মনে রাখবেন, মনে রাখবেন বয়স আমার মাত্র ২৭ বছর ৭ মাস, ছোট মুখে অনেক বড় কথা বলছি। আপনারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার যেই একটা আত্মতুষ্টিতে আপনারা ভুগছেন, আত্মবিশ্বাসী হওয়াটা ভালো কিন্তু আত্মতুষ্ট আপনারা যেভাবে হচ্ছেন যে আপনারা যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার টু-থার্ড মেজরিটির এই এই বড়াই দিয়ে। মনে রাখবেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনোই ভালো কিছু নিয়ে আসে নাই। আপনার ৯৬ তে আপনার ৯১ তে সংখ্যা গরিষ্ঠতা ছিল, এন্ড অব দা ডে রাষ্ট্রের সংকটের দিকে আপনারা নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০০১ এ যখন আপনারা সরকার গঠন করলেন তখন আপনারা হচ্ছেন একটা সংকটের দিকে নিয়ে গিয়েছেন। রাষ্ট্র, সরকার, জনগণ আপনাদেরকে সুযোগ দিয়েছিল আপনারা আবার ইতিহাসের ইতিবাচক একটা অংশের পার্ট হওয়ার। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় আপনারা সেটা হন নাই।

এবং আমাদের অনেক এমপিও আছে, বিএনপির মন্ত্রীদেরকে আসলে রাগাইতে চায় না, মনে করে যে এলাকার বাজেট-টাজেট বন্ধ করে দিবে, উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দিবে, তাদের সাথে আসলে সম্পর্ক নষ্ট করে কি লাভ। আবার সম্পর্ক ভালো রেখেও কি লাভ? যেটা সত্য সেটা বলতে হবে। আমার এলাকার বাজেট বন্ধ করে দিবেন? দিয়েন। আমার এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দিবেন? দেন। পুলিশ আমাকে সহায়তা না করার জন্য আপনারা ফোন দিয়ে বলে দিবেন পুলিশ যেন আমাকে সহায়তা না করে? দেন। আপনি এডমিনকে প্রশাসনকে বলে দিবেন হাসনাতের এলাকায় হাসনাতকে সহায়তা করতে করিয়েন না? দেন, সমস্যা নাই। দিন শেষে আমি এটা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের জনগণ আমাদের পক্ষে আছে, দেবিদ্বারবাসী আমার পক্ষে আছে। এবং আমার বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া, আমার এলাকার পুলিশকে আপনারা ফোন দিয়ে বলে দিবেন আমাকে যেন হেল্প না করে, কোন সমস্যা নাই। আপনি হচ্ছে ধরেন এটা যদি মনে করেন আপনার এই ক্ষমতাটা স্থায়ী, এটা সবসময় থেকে যাবে, এটা মানে আনফারচ… এটা কোনভাবেই সম্ভব না।

মানে আপনারা আমাকে অসহযোগিতা করবেন? করেন, ওয়েলকাম। দেবিদ্বারবাসী জানে। দেবিদ্বারবাসী এমনি ১৭ বছর ধরে বঞ্চিত ছিল, হয়তো আরো কিছুদিন থাকবে। আপনারা আমার হয়তো উন্নয়ন কার্যক্রম আটকায় দিবেন, আমার বিভিন্ন কাজ আটকায় দিবেন, পুলিশ হয়তো আমাকে অসহযোগিতা করবে, এডমিনিস্ট্রেশন আমাকে হয়তো অসহযোগিতা করবে, কিন্তু সত্য বলা থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারবে না। সংসদে একটা চেয়ার তো? কি হইছে? মানে কি হইছে ভাই? একটা লাইফে একটা জীবনে মানে দুইটা ডাল ভাত খাইয়া বেঁচে থাকলেই তো হইছে। এর বেশি তো কোন কিছুর দরকার নাই। মানে মাইরা ফেলবেন? ফাইন, মাইরা ফেললে একটা বৃহৎ একটা মহৎ কোন কিছুর জন্য মৃত্যু আর একটা স্বাভাবিক একটা বিছানায় পড়ে মৃত্যু দুইটা তো সেইম না। একটা মহৎ কিছুর জন্য মৃত্যু আমি নিজেই তো আত্মতুষ্টিতে থাকবো যে না, একটা মহৎ কিছুর জন্য মারা গিয়েছি বা মেরে ফেলা হয়েছে, সো হোয়াট? পরিবার, ব্যক্তিগত স্বার্থ, ব্যক্তিগত চাহিদা সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে এই বাংলাদেশের, বাংলাদেশের দলের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশের স্বার্থ আমাদের প্রয়োজন আছে।

বিএনপির আপনারা যারা আছেন, সরকারের আপনারা যারা আছেন, শুধু তো সরকারে বিএনপি নাই, সরকারে গণঅধিকার পরিষদ আছে, সরকারে রাষ্ট্র সংস্কার আছে, আন্দোলনের সাকি ভাই আছেন। আপনারা যে চুপ করে থাকেন এগুলো বাংলাদেশকে খুব দুঃখ দেয়, বাংলাদেশের মানুষকে খুব দুঃখ দেয়। যারা জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে আসছিল, এই জুলাইয়ে যারা রাস্তায় নেমে আসছিল তারা আমাদেরকে এমপি বানানোর জন্য রাস্তায় নেমে আসে নাই, তারা রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আসছিল।
দুঃখজনক বিষয় আপনারা কার প্ররোচনায়, কার কথায় বা কিভাবে আপনারা হচ্ছে একটা ব্যাকওয়ার্ড মুভ নিয়েছেন সেটা আমাদেরকে অনেক বেশি অনেক বেশি আমাদেরকে কষ্ট দেয়।

প্রিয় বাংলাদেশবাসী, আমরা আবার আমাদেরকে হচ্ছে এই বিষয়গুলোকে আপনারা আমলে নিবেন, আপনাদের আমাদের যে প্রয়োজন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত যে পরিবর্তনগুলা, আমাদের রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনগুলাকে আমাদের অবশ্যই নিয়ে আসতে হবে। মানে নো ম্যাটার হোয়াট, কে বাধা দিচ্ছে, কিভাবে বাধা দিচ্ছে, আমাদেরকে রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে আমাদের লড়াই চালায়ে যেতে হবে।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় দেখেন, মানে এটা আমাদের জন্য খুবই মানে দুঃখজনক আন্দোলনের সময় দেখা যায় নিম্নবর্ণের মানুষগুলা, নিম্নবর্গের রাজনৈতিক কর্মীরা রাস্তায় এসে জীবন দেয়। ব্যবসায়ীরা তখন আইসা টাকা-পয়সা দেয়। আন্দোলনের পরে দেখা যায় হচ্ছে রাজনীতিবিদরা আবার ব্যবসায়ীদের সাথে হাত মিলায়। রাজনীতিবিদরা তাদের পদ-পদবী পায়। যেমন আমরা পেয়েছি, আমি নিজেকে সেখান থেকে আলাদা করছি না। কিন্তু দিন শেষে জনগণ কিছুই পায় না। মানে আমরা জনগণের জন্য আসলে কি করতেছি? সবগুলা করতেছি দলের জন্য, সবগুলা করতেছি ব্যক্তির জন্য, সবগুলা করতেছি নিজের জন্য। মানে পিপলটা কোথায়? পিপল তো আমাদের মধ্যে নাই। মানে আমাদের মধ্যে তো পিপল নাই। মানে আমরা জনগণের জন্য তো কিছু করতেছি না।

যারা কোন কিছু না পাওয়ার জন্য রাস্তায় নেমে আসছিল, যেই ছেলেটা আপনাদের মনে আছে জুলাইতে একটা ছেলে মাথার মধ্যে একটা কড়াই বেঁধে পিছনে এইচএসসির এডমিট কার্ডটা বেঁধে রাস্তায় নেমে আসছিল। এই পোলাপাইনগুলা কেন আসছিল রাস্তায়? বলেন তো? যেই মেয়েটা একটা ক্রিকেট ব্যাট, ক্রিকেট ব্যাট হচ্ছে কাঁধে স্কুল ব্যাগে নিয়ে যাচ্ছিল তার ভাইকে মাইরা ফেলতেছে বলে বা হচ্ছে রাষ্ট্রকাঠামোর এই যে নষ্ট হয়ে গেছে বলে, ওই মেয়েগুলা কি পাইছে? তাদের কাছে আসলে আমরা কি জবাব দিবো? যেই মায়েরা রাস্তার মধ্যে নেমে আসছিল তাদের কাছে আসলে আমরা কি জবাব দিবো?

আমি খুব দুঃখ পাই এই সংসদ, যেই সংসদে ইলিয়াস আলীর ওয়াইফ বসে আছে, যেই সংসদে হুম্মাম কাদের বসে আছে, যেই সংসদে আরমান বসে আছে, সেই সংসদে আপনার গুম অধ্যাদেশ বাতিল করে দেয়। সেই সংসদে মানবাধিকার কমিশন বাতিল করে দেয়। আমরা কিচ্ছু করতে পারলাম না। যেই সংসদে প্রত্যেকটা মানুষ সাফারার, প্রত্যেকটা মানুষ সাফারার, সেই সংসদে আজকে এই সাফারারগুলাই অনেকটা অপ্রেসরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে, আমি বিশ্বাস করতে চাই না এটা।
তো দিন শেষে আসলে জনগণ কিছুই পায় নাই, জনগণ সবসময় টুল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাদেরকে কাজে লাগাইয়া যারা ক্ষমতায় থাকে তাদের ক্ষমতাকে ইলাস্ট্রেট করতে চায়। তো প্রিয় বাংলাদেশবাসী, আমরা আমরা আমরা সরি, আমরা পারছি না, পারছি না। তবে এর মানে এই না যে আমরা হাল ছেড়ে দিব। হাল ছেড়ে দিব না। আপনারা আমরা আমাদের শেষটা দিয়ে, আমাদের শেষ আমরা আমাদের জায়গা থেকে আমাদের চূড়ান্ত ত্যাগ যদি করতে হয় সেই ত্যাগের বিনিময় হইলেও আমাদের এই স্ট্রাকচারাল রিফরমেশনগুলাতে আমরা কোনভাবেই কম্প্রোমাইজ করবো না।

আপনারা একবার ভাবেন তো, আপনারা এখন যারা আমাকে দেখছেন এই পাশে যারা কেউ আমাকে দেখছেন, কেউ আমাকে শুনছেন, কেউ আমাকে গালাগালি করছেন আপনারা যারা গালাগালি করছেন তারা সহ আপনাদের সবাইকে একটা প্রশ্ন। ২০২৪ সালে বা ২০২৩ সালে রাষ্ট্র সংস্কারের এই প্রস্তাবনাগুলা যদি শেখ হাসিনা দিতো যে এই ধরনের একটা মানবাধিকার কমিশন করা হবে, এই ধরনের একটা পুলিশ সংস্কার কমিশন করা হবে, এই ধরনের একটা হচ্ছে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় পৃথকীকরণের একটা কমিশন করা হবে। ২০২৩ সাল বা ২৪ সালে দিতো এই ধরনের একটা প্রস্তাব, আপনারা বলেন তো বিএনপি কি এটার বিরোধিতা করতো? বিএনপি এটার বিরোধিতা করতো না। বিএনপি এগুলাকে লুফে নিতো। এই রাষ্ট্রকাঠামোর এই প্রস্তাবটাকে বিএনপি লুফে নিতো। তারমানে বিরোধী দলে থাকতে মানবাধিকার আরাম, সরকারি দলে আসলে সেটা হয়ে যায় হারাম। বিরোধী দলে থাকলে পুলিশের স্বাধীনতা চাওয়া আরাম, সরকারি দলে আসলে পুলিশের সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা চাওয়া হয়ে যায় হারাম। বিরোধী দলে থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাওয়া আরাম, আর সরকারি দলে আসলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হয়ে যায় হারাম।

এই যে দ্বিচারিতা, চেয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে, ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে, দিক পরিবর্তনের সাথে সাথে এই যে দ্বিচারিতা, এই দ্বিচারিতা আপনাদেরকে জনগণ বিচ্ছিন্ন অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই করবে।
প্রিয় দেশবাসী, আমরা আমাদের জায়গা থেকে প্রত্যেকটা মানুষ আমি বিশ্বাস করতে চাই আমাদেরকে আর এই যে ধরেন ওই যে একটা কথা আছে না ভূগোল বুঝাইয়া আমাদেরকে জনগণ বিরোধী কোন ধরনের কর্মসূচি করতে করে ফেলবে সরকার, এই সরকারের এই সুযোগ আমরা দিব না। জীবন চলে গেলে জীবন দিব, জান চলে গেলে জান দিব, কিন্তু রাষ্ট্রবিরোধী সরকার বিরোধী মানে কোন ধরনের, কোন ধরনের কোন কার্যক্রম করতে দিব না। রাষ্ট্রবিরোধী জনগণ বিরোধী।

অনেকেই বলেন যে ভাই আপনি যেভাবে কথা বলতেছেন, এই যে একজন বলতেছে আপনাকে তো সরকার ফান্ড বন্ধ করে দিবে। দিক! সো হোয়াট? মানে আমি কি সরকারের পা চাটবো নাকি? মানে মন্ত্রীর সাথে সম্পর্ক রাখবো একটা অন্যায্য সুবিধা পাওয়ার জন্য, সংসদে দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে একটা ন্যায্য কথা বলা থেকে বিরত রাখবো নাকি? ভাই মানে আমার জবাবদিহিতা হচ্ছে মানুষের কাছে, মন্ত্রীর কাছে না। মন্ত্রী এই বছর আছে আরেক বছর থাকবে না, এই টার্ম আছে আরেক টার্ম থাকবে না, কিন্তু জনগণ সবসময় থাকবে। সুতরাং যদি আপনি আমাকে বলেন যে সত্য বলা থেকে বিরত রাখার জন্য, শুধুমাত্র বরাদ্দ পাওয়ার জন্য, ফান্ড পাওয়ার জন্য, সত্য বলার থেকে বিরত রাখার জন্য আমি যদি এখনই কম্প্রোমাইজ করি পরবর্তীতে আরো বড় কিছুর জন্য পাওয়ার জন্য আমি বিভিন্নভাবে আমার জীবনটা কম্প্রোমাইজের মধ্য দিয়েই যাবে। না দিলো, ফান্ড বন্ধ করে দিলো, পুলিশ আমাকে হেল্প করা বন্ধ করে দিলো, এডমিনিস্ট্রেশন আমাকে হেল্প করা বন্ধ করে দিলো। যে আমাকে অন্যায্যভাবে আমাকে আমার পথকে বাধাগ্রস্ত করবে, তারা তাদের ফলাফল সেটা কোন না কোনভাবে পেয়ে যাবে। মানে এটা এটা এটা এটা মানে আমি ন্যাচারে বিশ্বাস করি, আমি ন্যাচারাল জাস্টিসে বিশ্বাস করি, সেটা কোন না কোনভাবে পেয়ে যাবে, এটা এটা কিচ্ছু আসে যায় না আমার।

আপনি এই কারণে ওই যে মন্ত্রীর সাথে কুসুম কুসুম সম্পর্ক রাখতে হবে, কুসুম কুসুম বিরোধিতা করতে হবে, যদি আমার ফান্ড বন্ধ করে দেয়। দিলে দিক আমার কিচ্ছু আসে যায় না। কিচ্ছু আসে যায় না। কিন্তু যেটা সত্য, সত্যটাই আমাকে বলতে হবে। যেটা মিথ্যা, মিথ্যাটা আমাকে প্রকাশ করতে হবে। এর মাঝখানে কোন ধরনের পার্থক্য রাখা যাবে না। পুলিশ আমাকে সহযোগিতা করলেও আমার কিচ্ছু আসে যায় না, প্রশাসন আমাকে সহযোগিতা করলেও কিছু আসে যায় না, সরকার আমাকে সহযোগিতা করলেও আমাকে কিচ্ছু আসে যায় না। আমার হচ্ছে মন্ত্রীরা আমার বিরোধিতা করলেও আমার কিচ্ছু আসে যায় না, মন্ত্রী আমার ফান্ড বন্ধ করে দিলেও আমার কিচ্ছু আসে যায় না। সচিবরা আমাকে অসহযোগিতা করলেও কিচ্ছু আসে যায় না। মানুষের বাঁচে আর কয়দিন? মানুষ বাঁচবেই কয়দিন? মানুষ তো ভাই মানে মৃত্যু পর্যন্ত সারাজীবন ক্ষমতায় থাকবে না।

কিন্তু দিন শেষে মানুষ জানুক, জনগণ জানুক যারা আমাকে ভোট দিছিল, যেই মহিলাগুলাকে মানে লাইন ধরে ধরে আমাকে ভোট দিছে, বিনা পয়সায় যারা আমাকে ভোট দিছে, তারা জানুক দিন শেষে যে আমি সত্যের পথে ছিলাম। যেই ইয়াং প্রজন্ম শিক্ষিত প্রজন্ম যারা বিনা পয়সায় আমাকে ভোট দিছিল তারা তাদের কাছে আমার জবাবদিহিতাটা আমি নিশ্চিত করতে চাই। আমি বিশ্বাস করতে চাই আমি যদি সত্যের পথে থাকি, সেক্ষেত্রে যদি সরকার আমাকে বাধাও দেয় জনগণ আমার পাশে দাঁড়াবে। আমাকে বিনা পয়সায় ভোট দিয়ে জিতাইছিল, আবার আমাকে প্রয়োজনে বিনা পয়সায় ভোট দিয়ে জিতাবে। কিন্তু আমি কম্প্রোমাইজ করতে পারবো না না না। কোনভাবেই না। কোনভাবেই না।

আমি মিডিয়াকে দেখেছি দালালি করতে। মিডিয়ার এই যে দালালি মানে এটা মানে এটা পৃথিবীতে মানে পৃথিবীতে যদি কোন উদাহরণ হয়ে থাকে মিডিয়ার দালালি এটা বাংলাদেশে হচ্ছে এক নাম্বার হবে মিডিয়ার দালালি। মিডিয়া, মিলিটারি, ব্যুরোক্রেসি সবাই এখন আবার হচ্ছে মানে জি হুজুর জি হুজুর আবার কালচারে চলে গিয়েছে। এই জি হুজুর কালচারে এনসিপি যাবে না, জি হুজুর কালচারে এনসিপি রাজনীতিবিদরা যাবে না। কোনভাবেই যাবে না। কোনভাবেই না।

আপনি আমার চেহারা নিয়ে কথা বলেন, আপনি আমাকে চেহারা নিয়ে আমাকে ট্রল করেন, আপনি আমাকে কালো বলেন, হোয়াট এভার এগুলা আমার কিচ্ছু আসে যায় না। মানে এইটা দিয়ে আপনি আমাকে থামাইতে পারবেন? কোনভাবেই না, নেভার, কোন ওয়েতেই না ভাই। যেটা সত্য এই সত্য যত মানে ইভেন আমার জীবনের যদি কস্ট হয়, আমার জীবনের যদি স্যাক্রিফাইস হয় সেটা থেকে আপনি আমাকে বিরত রাখতে পারবেন না।

যতদিন না পর্যন্ত এই স্ট্রাকচারাল রিফরমেশনগুলা তৈরি না হয়, মানে আপনার স্ট্রাকচারাল রিফরমেশনগুলা বাস্তবায়ন না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে। আমাদের লড়াই চলবে। আপনি সংসদে আমাদেরকে লবিতে আইসা বলবেন, বয়স কত মাত্র এতদিন? আরে অপেক্ষা করো, অপেক্ষা করো। দরকার আছে শত্রু বাড়াইয়া? দরকার আছে শত্রু বাড়াইয়া? যদি কেউ শত্রু হইতে চায় মানে এটার জন্য তো আর আমি কিছু করতে পারবো না। আমার তো কারো প্রতি কোন ক্ষোভ নাই। আমি চাই আপনারা ভালো করেন, বিএনপি ভালো করুক। কারণ আপনাদের সাথে গণমানুষের একটা সম্পর্ক আছে, বিএনপি ভালো করুক।

কিন্তু আপনারা যেভাবে করতেছেন মানে দিন শেষে আপনি করবেন গুলিস্থানে মার্কেট আর নেতা যাবে দুবাই মার্কেট করতে। আপনি ছুটিতে যাবেন হচ্ছে গিয়ে ওই যে চানখাঁরপুল, আপনার নেতা যাবে লিভারপুল। তো সেই জায়গা থেকে এই নেতার পা চাটাচাটি কইরা লাভ নাই। এই পা চাটাচাটিটা বন্ধ করেন। নেতা যাই করে সব এই যে ঠিক করে ব্যাপারটা এমন না। নেতাকে নির্মোহভাবে ক্রিটিক্যালি নেতাকে অবজার্ভ করেন, ক্রিটিক্যালি নেতাকে ক্রিটিক করেন। এবং নেতাকে এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখার যে এক ধরনের আমাদের মনস্তত্ত্ব তৈরি হয়েছে, সেটা থেকে নিজেরা নিষ্কৃতি পান।

আপনাদের নেতারা আপনাদের দেখবেন নেতারা হচ্ছে বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে আওয়ামী লীগের। আপনারা যারা রাস্তায় এসে ৩০ সেকেন্ডের একটা স্লোগান দিয়ে দৌড় মারেন হচ্ছে আপনার আলোকগতিতে, আপনাদের নেতারা হচ্ছে বিদেশে বসে বসে জন্মদিন পালন করে। বড় হচ্ছে গাড়িতে ঘুরাঘুরি করে, বিভিন্ন বড় বড় শপিং মলে হচ্ছে শপিং করে। তো নেতার পা আপনারা যারা চাটেন, আপনারা নেতার পা চাটার আগে একবার ভাইবেন আপনারা কাদের পা চাটতেছেন।
আবার যখন যদি এই পা চাইটা কোন লাভ নাই রে ভাই। এই পা চাইটা লাভ আছে? আপনি দেশে হচ্ছে পুলিশের দৌড় খাবেন, আপনাকে জনগণ পিটাবে, আপনাকে রাজনৈতিক দলগুলা আপনাকে দৌড়ের উপরে রাখবে, আর আপনার নেতারা বিদেশে আরাম আয়েশের জীবন কাটাবে। আপনি হচ্ছেন এদিকে বুড়িগঙ্গার তীরে হচ্ছে জীবনযাপন করবেন ২০০ টাকা ভাড়ায় বাসায় থাকবেন অন্ধকার গরমের মধ্যে। আর আপনার নেতা টেমসের মধ্যে অথবা দুবাইয়ের হচ্ছে নদীর মধ্যে ইয়ট নিয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াবে এবং সেখানে হচ্ছে উনি জন্মদিন পালন করবে। তো এই বিষয়গুলো একটু মাথায় রাইখেন যে কার পিছনে যাচ্ছেন এবং হচ্ছে কাদের জন্য রাজনীতি করছেন।

আর আপনারা যারা অনেকেই আছেন নেতার পা চাটেন নেতার পিছনে পিছনে। নেতার পা চেটে জীবনটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন। এই এখন নেতার পা চাটতেছেন কিছুদিন পরে নেতার ছেলের পা চাটতে হবে। এখন চাটতেছেন নেতার পা, নেতার পা চেটে কোন লাভ হয় নাই এরপরে চাটবেন নেতার ছেলে। নেতার ছেলে সবসময় নেতাই হবে। আর দিন শেষে আপনারা যারা চাটার উপরে থাকেন, চাটাচাটি যাদের হচ্ছে কর্ম, চাটাচাটি যাদের হচ্ছে জীবিকা, চাটাচাটি ছাড়া যাদের মনস্তত্ত্বের মধ্যে স্বাধীনতা নাই, যারা মানসিকভাবে স্বাধীন না, যারা মানসিকভাবে হচ্ছে চাটা… মানে চাটামিকে যারা জীবিকা হিসেবে নিয়েছেন, দিন শেষে আপনাদের চাটতেই হবে। এখন কিছু আগে চেটেছেন নেতার বাবাকে, এখন চাটতেছেন নেতাকে, কিছুদিন পরে চাটবেন নেতার ছেলেকে। এটাই হচ্ছে আপনাদের নিয়তি।

যদি এটা না করতে চান, স্বনির্ভর হতে চান, সত্যকে সত্য বলতে চান, মিথ্যাকে প্রকাশ করতে চান তাহলে এইসব চাটাচাটি বাদ দেন। দল আপনাকে ভাত দিবে না। আপনার ঘরে যদি ওষুধ না থাকে, আপনার মায়ের যদি ওষুধ না থাকে নেতা এসে সেই ওষুধ কিনে দিয়ে যাবে না।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!