জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, বর্তমান সরকারের নানা ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। কিন্তু সরকারের সমালোচনা করলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সরকারকে কঠিন ভাষায় কথা বললে তো কাল আবার বাসায় হামলা করবে।
তিনি বলেন, তাই সম্মানের সঙ্গে, বিনয়ের সঙ্গেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করছি, এতোই যদি জ্বালানি মজুত থাকে, তাহলে তেলের এতো দীর্ঘ লাইন কেন? এই মজুত কোথায় রেখেছেন? নতুন ‘হাওয়া ভবন’ কোথায় সৃষ্টি করেছেন?
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকি মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এক গণমিছিলোত্তর সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে রাশেদ প্রধান বলেন, দেশের গ্রাম অঞ্চলে এখন গড়ে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের দিন খুব কষ্টে কাটছে। প্রতিদিন তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখতে পাই। অথচ সরকার বলে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। যদি সত্যিই মজুত থাকে, তবে মানুষকে কেন লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে হচ্ছে?
তাকে অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির কড়া জবাব দেন এই নেতা। তিনি বলেন, আমাকে যারা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন, তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে, দিল্লির সামনে মাথা নত করে আপনাদের মতো প্রতিদিন ধুঁকে ধুঁকে মরবো না। আল্লাহ নির্ধারিত সময়েই মৃত্যু বরণ করবো। তার আগ পর্যন্ত ইনসাফের লড়াই চালিয়ে যাব।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকের এই সমাবেশ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, এই সরকার গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না। তাই লড়াইয়ের মাধ্যমেই তাদের বাধ্য করতে হবে।
গণমিছিল কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সহ-সভাপতি মেজর (অব.) ডা. আবদুল ওহাব মিনার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামি পার্টির মুসাবিন এজাহার এবং খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী প্রমুখ
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






