ঢাকা   শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

জনগণের ভাষা বুঝুন, তাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করবেন না: এ টি এম আজহার

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

জনগণের ভাষা বুঝুন, তাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করবেন না: এ টি এম আজহার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘ক্ষমতার দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আজ জনগণকে দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নামতে হয়েছে। রাজপথের আন্দোলন কিন্তু আপনাদের জন্য ভালো বার্তা দেবে না। জনগণের ভাষা বুঝুন, তাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করবেন না।’

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর পানির টাংক মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে’ এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে গণমিছিল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সরকারের উদ্দেশে এ টি এম আজহার বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর এখন সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। কোন সংবিধানের বলে আপনারা ক্ষমতায় আছেন, এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন? একটা আইন মানবেন আর একটা আপনাদের বিরুদ্ধে গেলে মানবেন না, এটা জনগণও মেনে নেবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শক্তিকে দেশের মানুষ ১৬ বছর আন্দোলন করে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা যদি মনে করেন পেটুয়া বাহিনী দিয়ে আন্দোলন দমন করবেন, তবে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। মনে রাখবেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাউকে আজীবন ক্ষমতায় রাখে না। আওয়ামী লীগ ভুয়া নির্বাচন করে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘আমরা যখন সাংবাধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম, দুদক, বিচার বিভাগের সংস্কার নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম, পুলিশ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীদের সংস্কার নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চিরাচরিত অভ্যাস হাওয়া ভবনের ভাই-ব্রাদারদের নিয়ে এসেছে কাউকে দুদকে, কাউকে বাংলাদেশ ব্যাংকে, কাউকে বিচারালয়ে বসিয়েছে, কাউকে পুলিশ প্রশাসনে, কাউকে সংসদে নিজের মুখ বন্ধ করে তাকে গ্রিন কার্ড দিয়ে বলেছে, তুমি যা ইচ্ছা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করতে পার। তোমাকে আমি গ্রিন কার্ড দিয়ে দিলাম।’

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই যদি হয় জিয়াউর রহমানের সন্তানের ভবিষ্যৎ, তাহলে তার ভবিষ্যতে সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাবে না।’

জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নানা ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। কিন্তু সরকারের সমালোচনা করলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সরকারকে কঠিন ভাষায় কথা বললে তো কাল আবার বাসায় হামলা করবে। তাই বিনয়ের সঙ্গেই জিজ্ঞেস করছি, এতই যদি জ্বালানি মজুদ থাকে, তবে তেলের জন্য কেন দীর্ঘ লাইন? এই মজুদ আপনারা কোথায় রেখেছেন? নতুন হাওয়া ভবন কোথায় সৃষ্টি করেছেন?’

বক্তব্যে তাকে দেওয়া অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আমাকে যারা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন, তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করে দিল্লির সামনে মাথা নত করে আপনাদের মতো প্রতিদিন ধুঁকে ধুঁকে মরব না। আল্লাহ নির্ধারিত সময়েই মৃত্যু দেবেন। তার আগ পর্যন্ত ইনসাফের লড়াই চালিয়ে যাব।’

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, এবি পার্টির সহসভাপতি ড. ওহাব মিনার, ডেভলপমেন্টমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চাঁন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতা খন্দকার মেরাজুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইজহার, খেলাফত মসলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী প্রমুখ।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!