ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পরও তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ না করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন এনসিপির আরেক নেত্রী ও প্রার্থী মনিরা শারমিন।
রোববার (০৩ মে) বিকেলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা।
আবেদনে মনিরা শারমিন উল্লেখ করেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক মনোনীত হয়ে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি। গত ২৩ এপ্রিল বেআইনিভাবে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত হয়ে আমি নির্বাচনী আপিল দায়ের করি। আমার আপিল মামলাটিও ২৮ এপ্রিল খারিজ করে দেওয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার ২৩ এপ্রিলের আদেশ এবং ২৭ এপ্রিলের আপিল আদেশের বিরুদ্ধে আমি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করি। ওই রিট মামলাটি ৪ মে হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হবে।
অতএব, ওই মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অপর প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া আবশ্যক। যেহেতু আমার দল প্রথমে আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, সেহেতু মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের জন্য নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত। অন্যথায় আমি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের বলেন, মনিরা শারমিনের আবেদনটি আমরা হাতে পেয়েছি। ওই রিট মামলাটি সোমবার (০৪ মে) শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন। এটি আইনগতভাবে কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে আমরা সোমবার সিদ্ধান্ত নেব।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিসংক্রান্ত জটিলতায় বাছাইয়ে মনিরা শারমিনের মনোনয়ন নিয়ে বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আর অন্যদিকে মনোনয়ন দাখিলের শেষদিন নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর জামায়াত জোট থেকে এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিলম্বে জমা দেওয়ার কারণে প্রথমে তা গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশে নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ২ মে বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
ইসি কর্মকর্তাদের মতে, সোমবার হাইকোর্টের শুনানিতে যদি মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বৈধতা পায়, তবে এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কারণ ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে জামায়াত জোটের ভোটাররা দুই প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেবেন। আর যদি মনিরার আবেদন খারিজ হয়, তবে নুসরাত তাবাসসুমই সরাসরি সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেটভুক্ত হবেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ ঘটনায় এরইমধ্যে আমরা ৩২ জন নিহত ব্যক্তির তালিকা পেয়েছি। তারা শাপলা চত্বরেই নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া সে সময়কার সরকারের ঊর্ধ্বতনদের বা পুলিশের যারা জড়িত রয়েছেন, কিংবা অর্থের জোগান দিয়েছেন; তাদেরও আসামি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরের এ মামলায় ৯০ শতাংশ তদন্ত শেষ হয়েছে। বাকি কাজও শিগগির সম্পন্ন করতে পারবো। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আকারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
গত ৫ এপ্রিল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল।
শাপলা চত্বরের এ মামলায় আসামির তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদসহ আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






