বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলমানদের ওপর চলমান নিপীড়ন, উচ্ছেদ অভিযান ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে আগামীকাল রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় মুসলমানদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ঈদগাহে হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একইভাবে আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও বসতবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘু মুসলমানদের জানমাল, ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
তিনি জাতিসংঘ, ওআইসি, মুসলিম বিশ্ব এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এ বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আজ শনিবার (৯ মে) দুপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠক পরিচালনা করেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। বৈঠকে আরও আলোচনা করেন— সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমীর মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।
বৈঠকে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরানকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বৈঠকে অবিলম্বে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন, ইরানসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার নিশ্চিত এবং মসজিদুল আকসার মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে মুসলিম বিশ্বকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, দেশের জনগণ গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে সুনির্দিষ্ট রায় দিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করে সরকার জনগণের মতামতের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়েছে।
বৈঠকে গণভোটের রায় কার্যকরে ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচি সফল করতে জেলা-জেলায় নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নূর মুহাম্মাদ আজীজ, সহকারী বায়তুলমাল সম্পাদক ক্বারী হোসাইন আহমদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানাজাল এমপি, মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ এমপি, মুফতি হাবীবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা মুহসিন উদ্দীন বেলালী, মাওলানা আব্দুল মুমিন, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা আমজাদ হুসাইন, মাওলানা মঈনুল ইসলাম খন্দকার, মুফতি আজিজুল হক, হাফেজ শহীদুল ইসলাম, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার মাহমুদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা রেজাউল করিম, মুফতি নূর হোসাইন নূরানী, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা ছানাউল্লাহ আমেনী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দীক ও মাওলানা জাহিদুজ্জামান প্রমুখ।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






