জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তাঁর দলের অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, ‘ন্যায়বিচার, জবাবদিহি, বহুত্ববাদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলমান। সংসদের ভেতরে ও বাইরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আমরা সেই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এনসিপির সংস্কার কমিটি আয়োজিত ‘সংস্কার অচলাবস্থা: উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ এসব কথা বলেন।
এ সময় বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন নাহিদ ইসলাম। সেই সঙ্গে তিনি ‘গণভোটে অনুমোদিত’ সাংবিধানিক সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অর্থবহ সংস্কারের জন্য একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করতাম, ১৯৭২ সালের সংবিধান সময়ের সঙ্গে এমন এক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে, যা নির্বাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ এবং রাষ্ট্রের ওপর একদলীয় আধিপত্যকে সম্ভব করেছে। কাঠামোগত সাংবিধানিক সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্রের পশ্চাদপসরণ অনিবার্যভাবেই ফিরে আসবে। তবে শক্তিশালী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বিরোধিতার কারণে নতুন সংবিধানের প্রস্তাবটি পরিত্যক্ত হয়। পরিবর্তে সব দল ন্যূনতম কিন্তু জরুরি সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে জুলাই সনদে একমত হয়।’
জুলাই সনদ ও ৪৮ দফা সংস্কার প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, ‘জনগণ বিপুলভাবে সংস্কার প্রস্তাবগুলো এবং সেগুলো ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনের পক্ষে রায় দিয়েছে।’
বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটভিত্তিক সংস্কার কাঠামোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন করতে অস্বীকৃতি জানায়।’
নাহিদ আরও অভিযোগ করে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা, পুলিশি জবাবদিহি এবং গুম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশ সরকার বাতিল করেছে। একই সঙ্গে নতুন আইন করে নির্বাহী ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উন্মুক্ত এই আলোচনায় অংশ নেন ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই), ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই), নরওয়ে দূতাবাস, সুইডেন দূতাবাস, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও ডেনমার্ক দূতাবাসের প্রতিনিধিরা।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য মো. আব্দুল আলীম, নাগরিক কোয়ালিশনের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাসরুর, এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম প্রমুখ।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






