শাহ আলী মাজারে হামলায় জামায়াতের দূরতম সম্পর্কও নেই বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় এ দাবি করা হয়।
সেলিম উদ্দিন বলেন, গত ১৪ মে দিবাগত রাতে মিরপুরের ঐতিহাসিক শাহ আলী মাজারে মুখোশধারী একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত নিরীহ মানুষের ওপর যে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে —তা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দর্শনার্থীদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ এবং লুটপাট —এটি শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সভ্যতার বিরুদ্ধে আঘাত।
সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, আমি এই হামলার সর্বোচ্চ ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি। আহত প্রতিটি মানুষের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে। পুলিশ প্রশাসনকে আমি সরাসরি বলতে চাই—দেরি নয়, এখনই তদন্ত করুন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করুন এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করান।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমীর বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার—আমি সরাসরি জবাব দিচ্ছি আমি অত্যন্ত পরিষ্কার ও দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করছি—শাহ আলী মাজারে এই হামলার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দূরতম সম্পর্কও নেই। কিছু সুবিধাবাদী সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক দলের ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই জামায়াতের ঘাড়ে এই ঘটনার দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। এটি কেবল মিথ্যাচার নয়—এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমীর আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় বিশ্বাস করে—যেকোনো অন্যায়ের প্রতিকার হবে আইনের মাধ্যমে, রাস্তায় বিচার করে নয়। এটি আমাদের আদর্শ, এটি আমাদের রাজনৈতিক চরিত্র।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়াকে আমার সরাসরি প্রশ্ন ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের মুখ দেখা গেছে। তাদের পরিচয় উদ্ঘাটন করা কি মিডিয়ার দায়িত্ব নয়? তদন্তের আগেই জামায়াতকে দোষী সাব্যস্ত করে যে সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে—তা সাংবাদিকতা নয়, এটি হলুদ সাংবাদিকতার নিকৃষ্ট উদাহরণ।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, আমি মিডিয়াকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—জনগণ এখন অনেক সচেতন। মিথ্যা প্রচারণার দিন শেষ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরীহ গ্রেপ্তার—এটি মানা হবে না।
ঘটনাস্থলে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিডিয়ায় এসেছে। অথচ গ্রেপ্তারের সময় তাদের বাদ দিয়ে জামায়াত সমর্থকদের টার্গেট করা হচ্ছে। এটি বিচার নয়, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
প্রমাণ ছাড়া, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। আসল সত্য যা কেউ বলছেন না। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সারা দেশে মাজারকেন্দ্রিক যে হামলাগুলো হয়েছে, তার পেছনে ‘ধর্মীয় উন্মাদনা’ নয়, আছে দখলদারিত্ব এবং অবৈধ অর্থের লোভ।
পতিত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যারা মাজার নিয়ন্ত্রণ করত, তারা এখন নতুন শক্তি দিয়ে সেই নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মাঠে নেমেছে। এই দখলের লড়াইকে সাম্প্রদায়িক রং দিয়ে প্রকৃত সত্য আড়াল করা হচ্ছে।
এই দখলদারিত্বের শিকড় খুঁজুন। সেখানেই পাবেন আসল অপরাধী বলেও উল্লেখ করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
উল্লেখ্য, শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নথি থেকে জানা যায়, ওরশ চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে মারধর শুরু করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক মাজারভক্ত নারী শনিবার (১৬ মে) মামলা দায়ের করেন। পরে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আলী থানার উত্তর বিশিল এলাকা থেকে ওই তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে মাজার জিয়ারত ও মানতের সময় আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। জিয়ারত ও মানতের কার্যক্রম চলাকালে অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জন জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে প্রধান গেট দিয়ে মাজারে প্রবেশ করে।
এজাহারে আরও আরও বলা হয়, এ সময় জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে জখম করা হয়। মাজারের সিন্নি গাছের গোড়ায় থাকা লাল কাপড় টানা-হেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলা ও মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ঘটনা দেখে আসামিদের বাধা দিতে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে জখম করে। বাদীর কাপড়চোপড় টানা-হেঁচড়া করে যৌন নির্যাতনও করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মারপিটের এক পর্যায়ে অজ্ঞাত একজন মাজারের মানতের খিচুড়ি রান্না করার চুলা ও পাতিল ভাঙচুর করে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা ক্ষতি করে। একইসঙ্গে বাদীর কাছে থাকা নগদ ছয় হাজার টাকাসহ জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে আনুমানিক ৯০ হাজার টাকা লুট করে। হামলার এক পর্যায়ে মাজারের উপস্থিত জিয়ারতকারী, মানতকারী ও ভক্তরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে আসামিরা ভয়ভীতি-হুমকি প্রদর্শন করে চলে যায়।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






