ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আজ ৩ মে এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সীমান্ত হত্যা প্রচন্ড অস্বস্তিকর বিষয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ সাধারণ ও বেসামরিক বাংলাদেশি হত্যার অভিযোগ আছে। বিগত ১০ বছরে প্রায় ১,০০০ মানুষ ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নিহত হয়, যার বেশিরভাগই বাংলাদেশি। সীমান্ত এলাকাকে দক্ষিণ এশিয়ার হত্যার ক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরস্ত্র এবং অসহায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ডের পরিষ্কার প্রমাণ সত্ত্বেও, এখন পর্যন্ত কাঊকেই হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত করা হয়নি।
ভারতীয় আধা সামরিক বাহিনী নিয়মিত হুমকি দেয়, নির্যাতন করে এবং সীমান্তে বসবাসকারী স্থানীয় বাংলাদেশী বেসামরিক নাগরিকদের আটক করে নির্যাতন করে।সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ ধর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটিয়েছে। এমন নির্মমতা সত্ব্যেও বিগত শেখ হাসিনা সরকার ভারতের বিরুদ্ধে শক্ত কোন অবস্থান নেয় নাই। ফ্যাসিবাদের মন্ত্রীরাও ভারতীয়দের সাথে তাল মিলিয়ে হত্যাকারীর বদলে নিহতকেই দায়ী করতো।
আমরা বিএনপি সরকারের কাছ থেকে ভিন্নকিছু আশা করেছিলাম। কিন্তু গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহুদ্দিন আহমেদ সীমান্ত হত্যা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা অনভিপ্রেত। তার এই বক্তব্য ভারতীয় অপরাধ ও বর্বরতার পক্ষে সাফাই তৈরি করবে। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহবান জানাই।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব বলেন, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে যাওয়া, হাট-বাজারে বেচাকেনা করা, এবং কাজ খোঁজার জন্য অনেক মানুষ নিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করে। এছাড়াও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে কৃষিজমিতে কৃষিকাজ কিংবা নদীতটে মৎস্য আহরণের জন্যও অনেক মানুষকে সীমান্তপথ অতিক্রম করতে হয়। এর মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন ছোটখাটো এবং গুরুতর আন্তঃসীমান্ত অপরাধেও নিয়োজিত। আমরা এই বাস্তবতা জানি। এর সমাধানে আইন আছে। কেউ অপরাধ করলে আইন অনুসারে তার যা শাস্তি হওয়া দরকার তাই হবে। কিন্তু সরাসরি গুলি করে মানুষ হত্যা করা বিশ্বের কোন আইনেই বৈধ হয় না। ভারত বরাবরই তা করে যাচ্ছে।দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের সরকারগুলোও এর পক্ষে সাফাই বয়ান তৈরি করছে। আমরা সরকারকে সতর্ক করতে চাই যে, সীমান্তে হত্যার বিষয়ে যদি সরকার ভারতীয় বয়ানের ওপরে আস্থা রাখে তাহলে সরকার-ই বরং মানুষের আস্থা হারাবে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ





