খুচরা পয়সার অভাবে নিম্নমানের সিগারেটে ৮০ পয়সা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী দলীয় সংসদ সদস্য আমির হামজা। তার মতে, অতিরিক্ত ৮০ পয়সা সরকার পায় না, এতে বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আমির হামজা বলেন, বাজেট অর্থবহ হবে যদি কার্যকর হয়। কিন্তু সরকারের বাজেটে ঘোষিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা রাজস্ব উত্তোলন সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। সেজন্য বলেছিলাম ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বাজেট ধরা হলে, ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমাদের ওপরে আসতো না।
সেজন্য কিছু পণ্যে দাম বাড়ানো-কমানো নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে প্রস্তাবনা দেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিম্নমানের একটি সিগারেটের দাম এখন ৬ টাকা ২০ পয়সা। কিন্তু খুচরা পয়সার অভাবে দোকানদারের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে ৭ টাকায়। সরকার বাকি ৮০ পয়সা পায় না। এটা পেলে হিসাব করে দেখলাম সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় বাড়বে।’
বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিলে ভালো হবে বলে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের এ সংসদ সদস্য।
আমির হামজার এই বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছিল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। গত ২২ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘তামাক খাতের কর ও নীতি সংস্কার’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায়, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের মূল্য নির্ধারণে বিদ্যমান অসামঞ্জস্যের কারণে সরকার প্রায় ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে।
পিপিআরসির গবেষণায় বলা হয়, নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের সরকারি মূল্য ৬২ টাকা, অর্থাৎ প্রতি শলাকার দাম ৬ টাকা ২০ পয়সা। কিন্তু বাস্তবে সারা দেশে এই সিগারেট ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই ধরনের পরিস্থিতি মধ্যম স্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। ফলে বাজারমূল্য ও কর নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ রাজস্ব ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে নিম্নস্তরের সিগারেট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৬৮ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন শলাকা। প্রতি শলাকায় ৮০ পয়সা ব্যবধান হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৫১২ কোটি টাকা।
পিপিআরসির মতে, বিদ্যমান কর ও মূল্য কাঠামো বাস্তব বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় না করায় সরকার এই বিপুল সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।






