নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রায় ১৮ বছর ধরে টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির সরকারি চাল-গম বিতরণে প্রভাব বিস্তারকারী একটি সিন্ডিকেট ভেঙে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান পরিচালনা কমিটি এবং অসহায়-দুঃস্থ মানুষের মধ্যে প্রায় ৮৬ মেট্রিক টন চাল ও ৮৬ মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে একটি অসাধু চক্র সরকারি বরাদ্দের চাল ও গম প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছ থেকে কম দামে কিনে নিয়ে বিপুল পরিমাণে লাভবান হয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রতি কেজি চাল ১৫ থেকে ১৬ টাকা এবং গম ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কিনে সরকারি সহায়তার প্রকৃত সুফল থেকে উপকারভোগীদের বঞ্চিত করত।
এবার নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নির্দেশনায় ওই সিন্ডিকেটের প্রভাব ভেঙে সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে সরকারি চাল-গম তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরকারি খাদ্য সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরকারি বরাদ্দ বুঝে পেয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে তিন ধাপে উপজেলার ২২টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ৮৬ মেট্রিক টন চাল ও ৮৬ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যে এসব খাদ্যশস্য বিতরণ করা হবে।
এ বিষয়ে ওসিএলএসডি (খাদ্য গুদাম)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদারকি) মো. আসাদুজ্জামান তুহিন বলেন, সরকারি খাদ্য সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছেই পৌঁছে এবং ভবিষ্যতে কোনো সিন্ডিকেট যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।






