২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের তল্পিবাহক পুলিশের দ্বারা মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল চৌধুরী। সে সময় ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপের এক রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়। এমনটাই জানিয়েছেন কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারিক চয়ন, যিনি নিজেও একসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং পরে সাংবাদিক ছিলেন।
মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডি থেকে অতীত রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, “শাকিল চৌধুরী। পরিচয়টা দেড় যুগের। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কর্মী। জুনিয়র শাকিলরা সবে যোগ দিয়েছে। প্রথম পরিচয়েই মনে হয়েছিল ব্যতিক্রম। দেড় যুগে একটানা নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিএনপি এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাদের মতো অনেকের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছিল সে। আমি ছাত্রদল থেকে একসময় বহু কাঠখড় পুড়িয়ে (সে সময় ছাত্রলীগ করে সাংবাদিক হওয়া যেতো, কিন্তু সাবেক ছাত্রদল নেতা হলে সাংবাদিক হওয়া যেতো না) ক্ষুদ্র সাংবাদিক হলে তার সাথে যোগাযোগ না কমে বরং বৃদ্ধি পায়! বিশেষ করে আওয়ামী বিরোধী আমার নেটওয়ার্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল শাকিল।”
২৪ এর জুলাইয়ের আগে শাকিল একাধিকবার গুম হন, কারাবরণ করেন এবং নির্যাতিত হন- উল্লেখ করে তারিক চয়ন লিখেছেন, “গুন্ডালীগ তাকে সবকিছু করতে পারলেও দমাতে পারে নি। প্রতিবার গুম থেকে, কারাগার থেকে কিংবা স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে বের হওয়ার পর সে আরও বেশি শক্ত হতো, আমাকে আওয়ামী বিরোধী লেখায় আরও বেশি উৎসাহ দিতো, নানান তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সাহায্য করতো। কিন্তু, বারবার নির্যাতনে ওর শরীরটা ঠিকই ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিল। সম্ভবত ওর মেরুদন্ডে সমস্যা হয়। কানের পর্দা ফেটে যায়। আমি না বুঝে স্বভাবসুলভভাবে ধমকাতাম, একটা কথা বারবার বলতে হয় কেন?! তোর কানে কি সমস্যা? যাই হোক। শাকিল নিজে কারাগারে গেলেও বিএনপির অনেক বড় বড় নেতাকে কারাগারে যাওয়া থেকে বাঁচিয়েছিল। ভাইরালও হয়েছিল। দেশি-বিদেশি নানান মানবাধিকারকর্মী আর কূটনীতিকরা বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা বুঝতে চাইলে আমি শাকিলকে অবশ্যই ডাকতাম। ও বাংলায় বললে আমি সাধ্যমতো ইংরেজিতে অনুবাদ করে দোভাষীর ভূমিকা পালন করতাম।”
শাকিল ৫ আগস্ট পর্যন্ত পালিয়ে বেড়িয়েছিলেন জানিয়ে তারিক চয়নের বক্তব্য, “তার সহযোদ্ধারা তাকে রাজপথে প্রকাশ্যে লড়তে দেখেছেন। কিন্তু, অনেকেরই জানা নেই পর্দার অন্তরালে সে কী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল৷ জুলাই-আগস্টে অগুনতি বিদেশি কূটনীতিক, এমপি-মন্ত্রী, গণমাধ্যম আর মানবাধিকারকর্মী (সকল প্রমাণ আছে) আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, মাঠের বাস্তব অবস্থা জানতে চেয়ে। কিন্তু, আমি তখন ২৪ ঘন্টা মাঠের যোদ্ধা ছিলাম না। সারাদিন, সারারাত লেখালেখি করে সেটা সম্ভবও ছিল না। আমার তখন মাঠের বাস্তব অবস্থা বুঝতে সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল শাকিল। একদিন শাকিলকে আমাদের পাশ থেকেই পুলিশ লীগ প্রায় তুলে নিচ্ছিল। কাকতালীয়ভাবে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপের এক রাষ্ট্রদূত বন্ধুকে কাছে পেয়ে সে যাত্রায় সবাই মিলে শাকিলকে বাঁচাতে সক্ষম হই। অন্যথায় মৃত্যু পায় নিশ্চিত ছিল।”
বার্তা বাজার/এস এইচ






