বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সাফ কথা, যেই গণভোটে জনগণ ৭০ ভাগ রায় দিয়েছে, সেই একই দিনের ভোটে আপনারা সরকার বলে দাবি করছেন। ওই গণভোট না থাকলে এই সরকারও মানা হবে না। ওই গণভোট যদি ব্যর্থ হয়, এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর ভাটারখাল এলাকায় হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দবৃন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথি জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা থেকে বরিশালে আসার পথে যখন ভাঙ্গা থেকে বরিশালে এলাম, তখন দেখি ভাঙ্গার পরেই ভাঙা রাস্তা শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরো রাস্তা বঙ্গোপসাগরের পানির ঢেউয়ের মতো। রাস্তা আবার মাত্র দুই লেনের। একটা বিভাগীয় শহরের রাস্তা। তাছাড়া পাশে আছে আবার কুয়াকাটা। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত। এই রাস্তাটা বরিশালবাসীর প্রাণের দাবি, এটা ছয় লেনে উপনীত হবে। কিন্তু সরকার এই ব্যাপারে কোনো কথা বলে না। সরকারি দলের এমপিরাও কোনো কথা বলে না।
তিনি বলেন, রেল হচ্ছে যোগাযোগের নিরাপদ এবং সহজ মাধ্যম। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রেল লাইন থাকলেও বরিশালবাসী রেললাইনের গল্প শুনেছে, রেললাইন দেখে নাই। কী অপরাধ বরিশালবাসীর? এখানে রেললাইনও দিতে হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে টেনে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, গণভোটে আপনারা হ্যাঁ বলেছিলেন। এদেশের ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিয়েছে, অতীতের প্রথা আর রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তন চাই, নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
তিনি বলেন, আফসোস- বর্তমান সরকারি দল বলেছিলেন, অধিকাংশ জনগণ যদি গণভোটের পক্ষে রায় দেয় তাহলে গণভোটের প্রত্যেকটা দাবি আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। আমরাও বলেছি, তারাও বলেছে, গণভোটে হ্যাঁ বলেন। কিন্তু হ্যাঁ যখন বিজয়ী হলো- যেভাবেই হোক, মেকানিজম করে তারা যখন ক্ষমতায় চলে গেলেন, তখন ‘হ্যাঁ, টা তারা ভুলে গেলেন। এখন বলতে বলতে তারা এসে বলতেছেন- আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলিনাই। আপনারা সত্য বলছেন না, আপনারা মিথ্যা বলছেন। কারণ আপনাদের ৩১ দফার প্রথম দফাই হচ্ছে সংস্কার। এখন বলেন যে, সংস্কার কী জিনিস বুঝি না, আসেন সংবিধান সংশোধন কমিটি করি।






