ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন হাইকোর্টের রায় স্থগিতের পাশাপাশি সরোয়ারকে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখারও আবেদন করেছিলেন।
আদেশের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। তাই সিএমপি (সিভিল মিসসেলেনিয়াস পিটিশন) থাকতে পারে না। আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আদালত। আবেদনকারী চাইলে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে পারেন। যেহেতু অ্যাডভার্স (বিপরীত) কোনো আদেশ নেই, তাই সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ারের কাজ চালিয়ে যেতে বাধা নেই।’
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, হাইকোর্টের রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপির জন্য আবেদন করা হয়েছে। রায়ের কপি হাতে পেলেই নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে।
উল্ল্যেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন সারোয়ার আলমগীর। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত ছিল। সরোয়ারের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে তার প্রার্থিতা বাতিলের ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষিত হয়। হাইকোর্টের রায়ের পর চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ারকে বিজয়ী ঘোষণা করে ৯ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। সেদিন সন্ধ্যায় সরোয়ার সংসদ সদস্যের শপথ নেন।
এ অবস্থায় হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে জামায়াতের প্রার্থী নুরুল ১২ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন। চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে।






