ঢাকা   রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

এনসিপিকে নিয়ে ভাইরাল বক্তব্যে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে-দাবি এনায়েতুল্লাহ’র

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

এনসিপিকে নিয়ে ভাইরাল বক্তব্যে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে-দাবি এনায়েতুল্লাহ’র

তাহরিকে খতমে নবুওয়্যাত বাংলাদেশের আমির ড. মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ও সিদ্দিকীর এনসিপিকে নিয়ে একটি বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নিয়ে এবার নিজেই দাবি করেন, “তার বক্তব্যের একটি অংশ বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।”

আজ রোববার এক বিশ্বস্ত গণমাধ্যমের ফোনালাপে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এনসিপিকে নিয়ে তার কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের ‘বটবাহিনী’ ব্যাপক অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেন না। তার ভাষ্য, তার সব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য দ্বীনের স্বার্থ, উম্মাহর স্বার্থ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে এনসিপির অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই দলটির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করে আসছেন তিনি।আব্বাসীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে এনসিপির কিছু রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষ্য, কিছু সময় দলটি ফরহাদ মাজহারের প্রভাবাধীন ছিল এবং কখনো জর্জ সোরোসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে দলটির নীরবতারও সমালোচনা করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যে দলের নেতাই কোরআন, সুন্নাহ ও ইসলামের পরিপন্থী বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের সমালোচনা করেছেন। বিএনপির নেতাদের ভুল বক্তব্যের যেমন প্রতিবাদ করেছেন, তেমনি জামায়াতের নেতা-বক্তাদের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন। একই ধারাবাহিকতায় এনসিপির কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন। এতে কোনো দলের পক্ষ নেওয়ার প্রশ্ন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত ও বিএনপিকে নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে তার সমালোচনার পর বিএনপির কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে নিজেদের বক্তব্যের জন্য তওবা করেছেন। এমনকি একজন বর্তমান সংসদ সদস্য মঞ্চে তার হাত ধরে তওবা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তার অভিযোগ, জামায়াতের কিছু নেতা-বক্তা ‘কুফরি বক্তব্য’ দেওয়ার পরও তা সংশোধন করেননি; বরং তাদের সমর্থকদের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। পুরো বক্তব্য শুনলে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট হবে। তিনি সমালোচকদের সম্পূর্ণ বক্তব্যটি শোনার আহ্বান জানান।

এর আগে গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) নিয়মিত জুমার বয়ানে তিনি রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কোরআন-সুন্নাহর নীতি নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি এনসিপি নেতাদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমরা চাই এনসিপিতে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা জাসদের মত হারিয়ে না যাক, ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী অভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের মত হারিয়ে না যাক। তারা খলিফা আব্দুল হামিদ, হাসান আল বান্না, সাইয়েদ কুতুবের উত্তরসূরি হতে পারবে না জানি; অন্তত হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী, এ কে এম ফজলুল হক আর আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর উত্তরসূরি হলেও তো জুলাইয়ের স্পিরিটটা ধরে রাখতে পারে। জুলাই বিপ্লবের অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে তারা হারিয়ে ফেলছে; একসাথে যারা যুদ্ধ করছে ফেসিবাদের বিরুদ্ধে এখন তাদের মধ্যে লড়াই হচ্ছে কেন? কারণ তাদের রাজনৈতিক যে এলাই সম্পর্ক হইছে ওটা কোরআন সুন্নাহর নীতিতে হয় নাই, তাকওয়ার ভিত্তিতে এটা হইছে ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারার ভিত্তিতে।’

রাজনৈতিক সম্পর্ক কোরআন-সুন্নাহর নীতিতে হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোরআন-সুন্নাহর নীতিতে এবং তাকওয়ার ভিত্তিতে রাজনৈতিক সম্পর্ক যদি না হয়, তবে বাংলাদেশ অচিরেই আবার অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়ে যাবে। যদি সামাজিক সম্পর্ক না হয় তাহলে মারামারি ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকবে। ১৬ বছরের ফেসিবাদের জগৎদল পাথর থেকে যারা দেশকে মুক্ত করেছে (এনসিপি), তারা তো জাতীয় বীর হিরো, কিন্তু বীরত্ব ধরে রাখতে পারছে কি?’

‘আমার মনে হয় দুষ্ট চক্রের কিছু গুপ্ত লোক তাদের মধ্যে ঢুকছে, উসকানি দিয়ে দেয় আর প্রাইম মিনিস্টারকে গালাগাল করে। রাজনীতির তো ভাষা আছে, সমালোচনার তো ভিত্তি আছে। একটা মানুষ যখন-তখন মাইক নিয়া প্রধানমন্ত্রী, তার বউ-কন্যাকে নিয়ে গালাগাল করবে, তো সরকার দলের লোকজন কি আঙুল চুষবে নাকি! আমি একটা ভিডিওতে দেখলাম (এনসিপি) তারা সব যে পুলিশের ওপর পড়ছে; তো পুলিশ কি রোবট নাকি? পুলিশ বাঁচার জন্য হাত দিয়ে পুশ করতেছে বলে গায়ে হাত দিলেন কেন? কেন তুমি কি তুলার তৈরি না মিশ্রির তৈরি না চিনির পুতলা যে তোমার গায়ে হাত দেওয়া যাবে না? তুমি গায়ে পড়ছো তোমারে যে আচ্ছা মতো দেয় নাই এটাই তো বেশি।’

এরপরই তার বয়ানের একটি অংশ (‘একটা মানুষ যখন-তখন মাইক নিয়া প্রধানমন্ত্রী, তার বউ-কন্যাকে নিয়ে গালাগাল করবে, তো সরকার দলের লোকজন কি আঙুল চুষবে নাকি!’) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন