ঢাকা   শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

উখিয়া-টেকনাফে ভোটের মরশুম: সম্ভাব্য প্রার্থী-১১

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৩২ পিএম

উখিয়া-টেকনাফে ভোটের মরশুম: সম্ভাব্য প্রার্থী-১১

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী আলোচনার তুঙ্গে উঠেছে। আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই সীমান্ত অঞ্চলের গ্রাম থেকে চায়ের দোকান পর্যন্ত ভোটাররা সম্ভাব্য ১১ এমপি প্রার্থীকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্ক এবং ভোট বিশ্লেষণ করছেন। নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হলে কোন দলের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন—এ নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এ আসনে আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, বিএনপি নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জামায়াতের জেলা আমীর অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুল হক শারেক, স্বতন্ত্র প্রার্থী পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি নুরুল বশর আজিজী, খেলাফত মজলিশের মাওলানা আফছার উদ্দিন চৌধুরী, এনসিপির উমর ফারুক জাতীয় পার্টির তাহা ইয়াহিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গবেষক ও শিক্ষক ড. হাবিবুর রহমান।

এই আসনকে বলা হয় “লক্ষী আসন”, কারণ স্বাধীনতার পর থেকে যে দল জয়ী হয়েছে, কেন্দ্রীয় ক্ষমতাও সেই দলের হাতে গেছে। কক্সবাজার-৪ আসনে সর্বাধিক চারবার সংসদ সদস্য হয়েছেন বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী।

স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, ১৯৭৯ সালে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরী, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল গনি, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের (ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে) বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী, ১৯৯৬ সালের (জুনের নির্বাচন) আওয়ামী লীগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী,২০০১ সালে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের আবদুর রহমান বদি এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের শাহিন আক্তার সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন।

উখিয়া-টেকনাফের এই আসনে বিএনপির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে এখনও বিবেচিত হন সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ শাহজাহান চৌধুরী। মাত্র ২৭ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি এ পর্যন্ত আটবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে চারবার জয়ী (১৯৭৯, ১৯৯১, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ ও ২০০১) এবং চারবার পরাজিত হয়েছেন (১৯৮৬, জুন ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে)। এছাড়া দলের সিদ্ধান্তে ১৯৮৮, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক সংকটের সময়ে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি দল পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উখিয়া-টেকনাফ বিএনপির রাজনীতিতে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার ধারে কাছে বর্তমানে কেউ নেই। তার ক্লিন ইমেজ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অমায়িক আচরণের কারণে এখনও তিনি ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য। স্বাধীনতার পর কক্সবাজার-৪ আসন থেকে বিএনপি থেকে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্যও তিনি। সমসাময়িক অনেক নেতা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও শাহজাহান চৌধুরী এখনো মাঠে পুরোদমে সক্রিয়।

স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন ভোটারদের মতে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাকে হারানো হবে “শূন্য পায়ে হিমালয় অতিক্রমের সমান।” দলীয় হাইকমান্ডও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার ওপর এবারও আস্থা রাখছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে জনপ্রিয়তা, ত্যাগ ও নেতাকর্মীদের ভালোবাসার কারণে এ আসনে বারবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন শাহজাহান চৌধুরী। তাকে টেক্কা দিয়ে এখনো কেউ মনোনয়নে ভাগ বসাতে পারেননি, কিংবা তার সমপর্যায়ের যোগ্য নেতা উখিয়া-টেকনাফ বিএনপিতে এখনও তৈরি হয়নি। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের পতনের পর তিনি চারটি মামলায় আসামি হন। এর মধ্যে দুইটির বাদী ছিলেন টেকনাফ শাহপরী দ্বীপের আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া এবং বাকি দুইটির বাদী ছিল সরকার।

এছাড়াও বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে তার ছোট ভাই সরওয়ার জাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৪২টি মামলা হয় এবং নির্বাচিত চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও দলীয় কারণে তিনি পদচ্যুত হন। আরেক ভাই অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী ১৮টি মামলায় আসামি হন এবং ক্রসফায়ার থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান। শাহজাহান চৌধুরীর ছেলে তারেক মাহমুদ চৌধুরী (রাজিব) ও ভাতিজা সাদমান জামি চৌধুরী দু’জনই দুটি করে মামলার আসামি হন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারে আমলে। এছাড়াও তাদের পারিবারিক আইনজীবী হওয়ায় কক্সবাজারের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এ মান্নানও ৯টি মামলায় আসামি হন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এমন মাত্র ৪৬ জন ব্যক্তি বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে আছেন। এদের মধ্যে ১১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ, ৪ জন প্রবাসে এবং বাকি ৩১ জন এখনও সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। এই ৩১ জনের মধ্যে অন্যতম হলেন শাহজাহান চৌধুরী। এসব ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের মনোনয়ন প্রদানের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলের সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে গুরুত্ব ও মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নেতারা মনোনয়ন পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছেন। গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা ছাড়াও ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এ বৈঠকে কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে কারা বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন তা চূড়ান্ত হতে পারে! মনোনয়নের জন্য এই পরীক্ষায় ইতিমধ্যে আমন্ত্রণ পেয়েছেন ১৬টি সংসদীয় আসনের প্রায় ৪৫ মনোনয়নপ্রত্যাশী। কক্সবাজার-৪ আসন থেকে উপস্থিত থাকার জন্য ইতিমধ্যে ডাক পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, উখিয়া বিএনপি সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে এক নাম মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক—অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। তিনি এবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, টানা চারবারের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, শিক্ষাবিদ, মানবসেবক এবং কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর।

২০০৩ সালে বিএনপির প্রভাবশালী সময়ে চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। প্রতিপক্ষ ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মরহুম মোস্তাক আহমদ চৌধুরী। সাধারণ জনগণের ভোটে আনোয়ারী ১,১৭৫ ভোটে জয়ী হন। এরপর দ্বিতীয়বার মোস্তাক আহমদের ছেলে জুনাইদ আলীকে ২,৩৩৫ ভোটে, তৃতীয়বার আওয়ামী লীগের ফরিদুল আলমকে ৩,২৭০ ভোটে এবং চতুর্থবার আওয়ামী লীগের আজিজুল হককে ৪,৫৫৫ ভোটে হারিয়ে ধারাবাহিকভাবে চারবার নির্বাচিত হন। ইউপি নির্বাচনে দীর্ঘ দুই দশক অপরাজিত থাকা তাঁর প্রতি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রমাণ। তবে ২০১৪ সালে একবার তিনি টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান।

শিক্ষাজীবনে তিনি প্রতিটি পর্যায়ে সেরা ফল অর্জন করেন। হ্নীলা শাহ মজিদিয়া আলিম মাদ্রাসায় দাখিলে ২য়, রঙ্গিখালী ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম ও ফাজিলে ২য়, কক্সবাজার সরকারি কলেজে বিএ-তে ২য়, হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসায় কামিলে ২য় এবং চট্টগ্রাম সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ১ম স্থান অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি হ্নীলা শাহ মজিদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও পৃষ্ঠপোষক।

প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রঙ্গিখালী ফাজিল মাদ্রাসা, কক্সবাজার ইসলামিয়া বালিকা কামিল মাদ্রাসা, কাঞ্জরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
অধ্যক্ষ আনোয়ারী এখন শুধু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নন; তিনি কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য।

উখিয়া-টেকনাফ আসনের রাজনীতিতে দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। এখনও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও, তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার কারণে তাঁকে এই আসনের আগামী দিনের নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপির রাজনীতির প্রতি আনুগত্যের কারণে আবদুল্লাহ ও তাঁর পরিবার ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে তাঁর সাত বছরের শিশুপুত্র আলোকে হত্যা করা হয়। বৃদ্ধ পিতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমদকেও থানায় নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। প্রতিপক্ষের হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ছিল তাঁদের পরিবারের জীবনের অংশ। অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হলেও আবদুল্লাহ কখনো আন্দোলন থেকে সরে আসেননি।

দুইবার টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কারচুপির কারণে পরাজিত হয়েছেন, তবুও জনপ্রিয়তা বেড়েছে। উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক। তাঁর ছোট ভাই জিয়াউর রহমান টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ায় পরিবারটির রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

তারেক রহমান বারবার তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আনার বার্তা দিচ্ছেন, আর উচ্চ শিক্ষিত আবদুল্লাহ সেই বার্তার প্রতিফলন। দীর্ঘ দমন-পীড়ন, ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি ও সংগ্রামের মধ্যেও তিনি অবিচল থেকেছেন। তিনি শুধু নির্যাতিত পরিবারের প্রতিনিধি নন, তরুণ প্রজন্মের নতুন আশার প্রতীক।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবার ঘোষণা দিয়েছেন। তার ভোটের রাজনীতি শুরু হয় ১৯৯২ সালে। প্রথমবার ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় হতে ব্যর্থ হন। ২০১১ সালে তিনি জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এম. মোক্তার আহমদ এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আলী আহমদকে পরাজিত করে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ ও ২০২১ সালেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে ভোটে টানা তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০১৩ সালে প্রচারণার মাইক ও গাড়ি পোড়ানোর মামলাসহ চারটি মামলা এবং ২০১৮ সালে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় গাড়ি পোড়ানোর মামলাসহ মোট ১৯টি মামলার আসামি হয়েছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে টানা তিনবার নির্বাচিত হলেও চারবার সাসপেন্ড হন, তবে প্রতিবার হাইকোর্টের আদেশে পুনর্বহাল হন।

চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী পালংখালী ইউনিয়নের থাইনখালী গ্রামে ১৯৬৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মুসলিম সাম্রাজ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম সুলতান আহমদ চৌধুরী ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় ইউনিয়নের সভাপতি এবং ১৯৮০ সালে গ্রাম সরকারের প্রধান ছিলেন।

উখিয়া-টেকনাফে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক ও সমাজসেবক ড. হাবিবুর রহমান। তিনি সাবরাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহপরীর দ্বীপ বাজারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা, মরহুম হাজী নবী হোসেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।

ড. হাবিবুর রহমান দেশ-বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জনসেবায় কাজে লাগানোর জন্য রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি কাতারের আমিরের দাওয়ানে আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও গবেষণা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জন। এর মধ্যে উখিয়ায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১০ এবং টেকনাফে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯ জন ভোটার রয়েছেন। পুরো আসনজুড়ে রয়েছে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা।

আগামী নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে রোহিঙ্গা সংকট ও এর ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা। পাশাপাশি মাদক ও মানবপাচার নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সড়ক–শিক্ষা–স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় মানুষ বলছেন, তারা এমন একজন নেতাকে চান, যিনি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে শুধু বক্তব্য নয়, বাস্তবমুখী সমাধান আনতে পারবেন; সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে শক্ত অবস্থান নেবেন; উন্নয়নকে ভাগাভাগি নয়, জনগণের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন। সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হলে এই আসনে লড়াই হবে দেশের সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচনের একটি।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন