ঢাকা   সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলির মামলার আসামি যোগ দিলেন বিএনপিতে

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলির মামলার আসামি যোগ দিলেন বিএনপিতে

নীলফামারীর সৈয়দপুরে চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে একজনকে আহত করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কামারপুকুর ইউনিয়ন সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সরকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন।

রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন আব্দুল গফুর সরকারের চাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি ও নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুর গফুর সরকার।

এই যোগদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি ঘিরে চলছে তীব্র বিতর্ক। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে নিজেদের মতামত দিচ্ছেন।

সমালোচকদের বড় একটি অংশের দাবি, অভ্যুত্থান পরবর্তী নাশকতার মামলা থেকে বাঁচতে এবং চেয়ারম্যান পদ টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই সাময়িক আশ্রয় হিসেবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন আনোয়ার হোসেন সরকার। অভিযোগ রয়েছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলি চালিয়ে তিনি নুর ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আহত করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া একটি বিস্ফোরক মামলায় তিনি একই বছরের ৬ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। মামলার নম্বর-০৪, জিআর-১৮৭/২৪। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৩২/৩২৬/৪৩৬ক/৪১১/৩৪ ধারাসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৫/৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর এসব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ এক নেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনে তিনি এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।

তবে বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেতাসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর একযোগে বিএনপিতে যোগদান দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এ মতের সঙ্গে একমত নন দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী।

কামারপুকুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, “এরা আওয়ামী লীগের দোসর। মনে-প্রাণে এরা কখনোই বিএনপিকে গ্রহণ করবে না। খুন, গুম ও লুটপাটের মামলা থেকে বাঁচতেই তারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে তারাই আমাদের ওপর নির্যাতন চালাবে। এই যোগদানে বিএনপির কোনো লাভ নেই, বরং ক্ষতিই হবে। বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি, এমনকি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। যারা দীর্ঘদিন মামলা-হামলা ও নির্যাতন সহ্য করে দলে টিকে আছি, তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।”

জুলাই আগস্ট অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা রাফি বলেন, “নিজস্ব ভোটে জয়ের সম্ভাবনা না থাকায় ফ্যাসিস্টদের ভোট পাওয়ার আশায় এ ধরনের লোকদের দলে আনা হচ্ছে। যাদের সমাজে নিজেরাই গ্রহণযোগ্য নয়। আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের এই রাজনীতি শেষ পর্যন্ত দলের জন্য বুমেরাং হবে।”

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফিরোজ নামের এক যুবদল নেতা লিখেছেন, “আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার বলেন, “নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মানুষ এখন বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপিই একমাত্র সক্ষম দল। গতকাল রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হাতে পেলে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।”

তিনি আরও বলেন,“জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের কোনো মামলায় আনোয়ার সরকারের নাম ছিল না। পুলিশ যদি তাকে গ্রেপ্তার করে থাকে, সেটি পুলিশের বিষয়। আমাদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তিনি আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন—এটাই বাস্তবতা। চেয়ারম্যান হিসেবে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তিনি অবশ্যই তার পরিণতি ভোগ করবেন। প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী বলা যায় না।”

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান বলেন,“আমরা যাদের দলে নিচ্ছি, তাদের বাছাই করেই নিচ্ছি। বিশেষ করে যারা আমাদের ওপর কোনো দমন-পীড়ন চালায়নি এবং ভিন্ন দলের হয়েও সহাবস্থান ছিল এমন ব্যক্তিদেরই প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ দেওয়া হয়নি।”

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন