চট্টগ্রামে এক অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পাঁচ দিন পর একটি অবাক করা ঘটনা সামনে আসে, যা খোদ পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত চমকে দিয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার দেওয়ান বাজারের রুমঘাটা এলাকা থেকে ৩ মে খাল থেকে উদ্ধার করা মরদেহটি প্রথমে এক ব্যক্তি তার ছেলের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, ছেলেটি এখনও জীবিত এবং ঘটনাটি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল।
পুলিশের তথ্য মতে, ৩ মে চট্টগ্রামে কোতোয়ালি থানার এলাকায় একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হয়। পরদিন ৪ মে, ভোলার উবাইদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি মরদেহটি তার ছেলে আবদুর রহিমের বলে শনাক্ত করেন। পরে, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি ভোলায় নিয়ে দাফন করা হয়। কিন্তু অবাক করা ঘটনা ঘটে, যখন আবদুর রহিমের মুঠোফোন সচল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে পিবিআই তদন্ত শুরু করে, এবং মুঠোফোন ট্র্যাক করার পর রহিমকে হেফাজতে নেয়।
জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে যে, রহিম পাওনা টাকা ফেরত দিতে না পারায় মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপন করেছিলেন। এর ফলে, তার পরিবার তাকে খুঁজতে খুঁজতে চট্টগ্রাম শহরের একটি খালে মরদেহ পাওয়ার খবর পায়। তার বাবা, উবাইদুল্লাহ, ভুলক্রমে ওই মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করে এবং ভোলায় নিয়ে দাফন করেন।
বাবা উবাইদুল্লাহ জানান, তার সন্দেহ ছিল, আবদুর রহিম খুন হয়েছেন। কারণ, এক সপ্তাহ আগে রহিম তাকে জানিয়েছিল যে, গেমস খেলে আইফোনসহ চার লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছে এবং পুরস্কারের জন্য ৪০ হাজার টাকা চেয়েছিল। এই টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে রহিম অনেকের কাছ থেকে ঋণ নেয়, কিন্তু পুরস্কারটি ছিল প্রতারণা। টাকা হারিয়ে রহিম নিখোঁজ হয়ে যায় এবং তার বাবা বিশ্বাস করেছিলেন যে, রহিমকে সম্ভবত একটি জুয়াড়ি চক্র খুন করেছে।
পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা কালবেলা জানান, অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করেছিল। পরে রহিমের মুঠোফোন চালু হলে তার জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। বৃহস্পতিবার (৮ মে) পিবিআই তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং জানায়, রহিম পাওনা টাকা না দিতে পেরে মুঠোফোন বন্ধ করে রেখেছিল।
পুলিশ জানায়, খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ পচে গিয়েছিল এবং ফুলে গিয়েছিল। তবে মরদেহটির মুখে থাকা দাড়ি দেখে উবাইদুল্লাহ মনে করেছিলেন এটি তার ছেলে রহিমের মরদেহ। মরদেহের শারীরিক গঠনও বেশ কাছাকাছি ছিল, যার কারণে ভুল শনাক্ত হয়েছিল।
নাইমা সুলতানা আরও জানান, যেহেতু রহিমের পরিচয়ে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে, তাই সেই মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যদি কেউ নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পর্কিত দাবি করেন, তবে তাদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মরদেহের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে। তবে, এখন পর্যন্ত কোন নিখোঁজ ব্যক্তির ডিএনএ মরদেহের ডিএনএ-র সঙ্গে মেলেনি।





