ঢাকা   শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

‘বাবাকে লক্ষ্য করে ছেলের গুলি’, বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী এমপি প্রার্থীসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ এএম

‘বাবাকে লক্ষ্য করে ছেলের গুলি’, বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী এমপি প্রার্থীসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ময়মনসিংহের ভালুকায় বাবাকে লক্ষ্য করে ছেলের গুলি ছোড়ার ঘটনায় বিএনপির বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থীসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মোহাম্মদ খোকা মিয়া নামের এক ব্যক্তি ভালুকা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় খোকা মিয়া তাঁর ছেলে তোফায়েল আহমেদ-কে ১ নম্বর আসামি করেছেন। আর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম-কে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল উপজেলার হবিরবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেদিন ব্যক্তিগত কার্যালয় খুলেছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এ সময় তাঁর বাবা খোকা মিয়া লোকজন নিয়ে গিয়ে কার্যালয় বন্ধ করতে বলেন। একপর্যায়ে বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে ছেলের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়টি গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, একটি গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।

মামলার এজাহারে খোকা মিয়া উল্লেখ করেন, কয়েক দিন আগে আসামিরা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের জমি দখলের চেষ্টা করলে তিনি ও স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। তখন তাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এর জেরে ১২ এপ্রিল হামলার ঘটনা ঘটে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। পরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচন চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভালুকা উপজেলার অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হবিরবাড়ি এলাকায়। এলাকাটিতে মোর্শেদ আলমের বাড়ি। সে কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঝুট ব্যবসা ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যের সমর্থকেরা ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করে। এ নিয়ে সংসদ সদস্যের সমর্থক ও মোর্শেদ আলমের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগে আছে।

গত নির্বাচনে খোকা মিয়া ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের সমর্থক ছিলেন। তাঁর ছেলে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন মোর্শেদ আলমের পক্ষে। এদিকে ১৪ এপ্রিল বিভিন্ন অভিযোগে ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খোকা মিয়া ও তাঁর ছেলে বিএনপির কর্মী তোফায়েল আহমেদকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, নির্বাচনের আগে এলাকার একটি কারখানার সঙ্গে ব্যবসা করতেন তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু নির্বাচনের পর ওই ব্যবসা চলে যায় বাবা খোকা মিয়ার নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচনের আগে এলাকার একটি কারখানার সঙ্গে ব্যবসা করতেন তোফায়েল আহমেদ। নির্বাচনের পর সেই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তাঁর বাবা খোকা মিয়ার হাতে।

এ বিষয়ে মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, ‘আমি ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করতাম। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সব মিলের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমপির লোকজন সব নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে মালামাল সরবরাহ ও বের করতে দিচ্ছে না। উল্টো মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো জায়গায় কাউকে আমার নাম ভাঙাতে বলিনি। আমি বলেছি, কেউ আমার নাম ভাঙালে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাবা-ছেলের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এলাকার আধিপত্য ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব বিরোধ তৈরি হয়েছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!