তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব চেয়ে আবেদন করা হলেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন। এতে প্রশাসনের আর্থিক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের তথ্য জানতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেন সময়ের কণ্ঠস্বরের পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি নাজমুস সাকিব মুন। আবেদনে জেলার প্রতিটি উপজেলায় নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা, তাদের ভাতা, জ্বালানি ব্যয়, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানি এবং সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচারের অনুলিপি চাওয়া হয়।
এছাড়া নির্বাচনী মনিটরিং টিম, ভিজিল্যান্স টিম, আইনশৃঙ্খলা সেল এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের খাতভিত্তিক বিবরণসহ নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত মোট বরাদ্দপত্রের কপিও চাওয়া হয়।
আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারী কমিশনার ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ২ (চ) অনুযায়ী চাহিত তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয়।
তবে আইনটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ধারা ২ (চ) মূলত ‘তথ্য’ এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করে, যেখানে সরকারি দপ্তরের হিসাব, নথি, বিল-ভাউচার, প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন উপাত্তকে তথ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদনকারী যে তথ্য চেয়েছেন, তা আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী তথ্যের আওতায় পড়ে।
অন্যদিকে, তথ্য প্রদানে বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে একই আইনের ধারা ৭-এ। সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা, তদন্তাধীন বিষয়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা বিচারাধীন মামলার মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তথ্য না দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নির্বাচনী ব্যয় ও প্রশাসনিক আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।
এ অবস্থায় তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগে ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ উঠেছে। আবেদন করার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও তথ্য না দেওয়ায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের টাকায় পরিচালিত কার্যক্রমের হিসাব প্রকাশ না হলে ব্যয়ের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে এবং এতে আর্থিক অনিয়ম আড়াল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ বিষয়ে আবেদনকারী নাজমুস সাকিব মুন বলেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সময় জেলা ও উপজেলায় সেমিনার আয়োজন করা হয়। এসব সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) উপস্থিত থাকেন।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক ক্ষেত্রে তারাই আবার এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান। এটি স্পষ্টত প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পথে অন্তরায়। যেখানে স্বচ্ছতার অভাব থাকে, সেখানে জনগণের প্রত্যাশার জায়গাটিও তুচ্ছ হয়ে পড়ে।
এদিকে, তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আবেদনকারী।
বার্তা বাজার/এস এইচ






