ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদী বর্তমানে ভয়াবহ কচুরিপানার দখলে এবং অবৈধ দখল-দূষণে নাব্যতা ও অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদটি এখন আর আগের মত খরস্রোতা নয়, বরং অনেকটা শান্ত এবং বিভিন্ন স্থানে কচুরিপানার ঘন স্তূপের কারণে প্রায় মৃতপ্রায়। নদীটি দখল-দূষণের কারণে সেই আগের যৌবন-জুলুস আর নেই।
বর্তমানে অস্বাভাবিক ভাবে কচুরিপানার তিতাস নদীটিকে গিলে ফেলেছে। এতে করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, কমে যাচ্ছে মৎস্যসম্পদ এবং বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নৌচলাচল। এতে নদীর পূর্ব পাড়ের দুটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রিয়লাল দাস জানান, আগে এই নদীতে সারা বছর পানি থাকত এবং নৌকা চলাচল করত। এখন নদী কচুরিপানায় ঢেকে গেছে এতে নদী পারাপার হতে সময় লাগছে।
এদিকে কচুরিপানার ঘন আবরণে সূর্যের আলো পানির নিচে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে, যা মাছসহ জলজ প্রাণীর জন্য হুমকি তৈরি করছে। স্থানীয় জেলেরা জানান, গত কয়েক বছরে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
নদীর অনেক অংশে কচুরিপানা এতটাই ঘন যে ছোট নৌকাও চলাচল করতে পারছে না। এতে স্থানীয়দের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত কচুরিপানা অপসারণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল মিলছে না। আর নদীর তীর দখল ও অবৈধ ভরাটের কারণে নদীর প্রশস্ততা কমে গেছে। এতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় নদী এখন খালের মতো হয়ে গেছে।
জানা গেছে, নদীতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ও ফসফরাস জমা হওয়ায় কচুরিপানা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর উৎস হিসেবে অপরিশোধিত বর্জ্য, কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ধুয়ে আসা পানি এবং আশপাশের বসতবাড়ির বর্জ্যকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া পৌর এলাকার খালগুলো দিয়ে আসা বর্জ্যও নদীতে মিশছে।
নদ-নদী ও খাল-বিল এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন‘ তরী বাংলাদেশ’ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ বার্তা বাজার কে বলেন, এই সংকট মোকাবেলায় নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। বর্জ্য পরিশোধন বাধ্যতামূলক করা, কৃষিতে সারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, নদী দখলমুক্ত করা এবং নিয়মিত কচুরিপানা অপসারণ এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ সম্প্রতি নদী রক্ষা কমিটির সভায় পৌরসভার বর্জ্য নদীতে না ফেলার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পৌর প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিতাস নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের ।






