দ্বীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান ডেলিভারী শুরু হয়েছে। এতে উপজেলার আসহায় খেটেখাওয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে।
আজ দুপুরে প্রসুতি কুলসুমা আক্তারকে সফল অস্ত্রোপচারের মধ্যদিয়ে নতুন করে এই যাত্রা শুরু হয়। অস্ত্রোপচার করেন গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাঃ রিফাত ও এনেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃ আশরাফুল আলম। কুলসুমার একটি ছেলে সন্তান ভূমিষ্ট হয়। মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক ডাঃ এনামুল হক ‘বার্তা বাজার’কে জানান, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে ৫০ শয্যার এই উপজেলা হাসপাতালটিতে টানা কয়েক বছর প্রসূতিদের সিজারিয়ান ডেলিভারীর সুবিধা ছিলো। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রসূতিদের সিজারিয়ান ডেলিভারী হতো। হঠাৎ করে ১ আগষ্ট থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থার তহবিল সংকটে এটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেবা বঞ্চিত হন উপজেলার অসহায় গরীব প্রসূতিরা।
তিনি আরো জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (IOM) এর চিকিৎসকদের সহায়তা এবং হাসপাতালের নার্স ও লজিস্টিক সহায়তার সমন্বয়ে টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালে প্রকল্পটি ফের চালু হয়েছে। এখন থেকে প্রসুতিদের নিয়মিত সিজারিয়ান ডেলিভারী সুবিধা প্রদান করা হবে। ডেলিভারী পরবর্তী নবজাতকের উন্নত চিকিৎসার জন্য ‘নিউনেটাল ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটি’ (NICU) বিভাগ চালু রয়েছে।
প্রসূতি কুলসুমা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, একজন মা জানেন সন্তান জন্মদান কত কষ্টদায়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের মতো গরীবদের কথা চিন্তা করে টেকনাফের বিত্তবানদের উচিত হাসপাতালের এই বিভাগটি সারা বছর চালু রাখতে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসা। কোন ভাবেই যেনো এটি বন্ধ হয়ে না যায়।
হাপাতাল সূত্র জানায় টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে চিকিৎসক রয়েছেন ২০ জন ও নার্স রয়েছেন ১৯ জন। বিশাল একটি উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্রে চাহিদার তুলনায় এতো কম সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স অপ্রতুল। যদিও ২০ জন চিকিৎসক দিয়ে টেনেহিছড়ে চালিয়ে গেলেও অন্তত আরো ১০ জন নার্স বিশেষ প্রয়োজন।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






