পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মরিচের আবাদ হলেও পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সরেজমিনে দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মরিচ হাট ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা মরিচ নিয়ে বিক্রির জন্য হাটে এসেছেন। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় পাইকাররা তুলনামূলক কম দামে মরিচ কিনছেন।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি মন কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। যা গত শনিবারের হাটে ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে গেছে।
দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, এবার মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু হাটে এসে দেখি দাম অনেক কম। গত হাটে যে মরিচ ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছি, সেটাই এখন ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
সোনাহার মল্লিক ইউনিয়নের কৃষক রাসেল আহমেদ বলেন, কয়েক দিন বৃষ্টির পর আবহাওয়া ভালো হওয়ায় একসঙ্গে বেশি মরিচ বাজারে আসায় দাম পড়ে গেছে। শ্রমিক খরচ, সার ও সেচের খরচ অনেক বেশি। তার ওপর ওজনের সময় প্রতি মণে ৩-৪ কেজি বেশি নেওয়া হয়। এই দামে বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা, অনেক সময় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, এখন বাজারে মরিচের সরবরাহ অনেক বেশি। বিভিন্ন এলাকা থেকে একসঙ্গে মরিচ আসছে। চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি থাকায় দাম কমেছে। সামনে সরবরাহ কমলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দেবীগঞ্জ উপজেলায় মরিচ চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৫৭৭ হেক্টর এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৫৮৫ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ হেক্টর জমির মরিচ কর্তন করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, আগে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যেত না। তবে এবার উপজেলা কৃষি অফিসের তদারকিতে ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ ফাঁদ ব্যবহার, মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং পরিমিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে ফলন হয়েছে আশাতীত।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাঈম মোর্শেদ বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় মরিচের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। সরবরাহ বেশি থাকায় সাময়িকভাবে দাম কমেছে। তবে পর্যায়ক্রমে বাজারে ভারসাম্য এলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
বার্তা বাজার/এস এইচ






