ঢাকা   বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

রূপগঞ্জ সদর ইউপিতে গ্রাম পুলিশের দৌরাত্ম্য, পোষাকবিহীন ডিউটি ও দালালির অভিযোগে ভোগান্তি চরমে

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

রূপগঞ্জ সদর ইউপিতে গ্রাম পুলিশের দৌরাত্ম্য, পোষাকবিহীন ডিউটি ও দালালির অভিযোগে ভোগান্তি চরমে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বিগত সরকারের সময়ে প্রশাসক নিয়োগ এবং ইউপি সচিবকে প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়ার্ডভিত্তিক নিয়োজিত গ্রাম পুলিশদের দায়িত্বে অবহেলা এবং পূর্বে নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের রাজনৈতিক ও মামলা জটিলতায় অনুপস্থিতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, দফেদার ছাত্তারসহ ছবির উদ্দিন, সুমন মিয়া, রিয়াজ মিয়া, লিপি আক্তার, সাব্বির, সাগর ও রুবেল, মোট ৮ জন গ্রাম পুলিশ কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে সুমন মিয়ার পিতা মফিজউদ্দিন একই পরিষদে নৈশ প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত তিন দিন ধরে হাজিরা খাতায় কোনো গ্রাম পুলিশের স্বাক্ষর নেই। সাংবাদিক উপস্থিতির খবর পেয়ে কয়েকজন গ্রাম পুলিশ দ্রুত এসে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তাদের গায়ে নির্ধারিত পোষাকও ছিল না। পোষাক না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখান।

এ বিষয়ে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা সামসুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার তারা উপজেলায় হাজিরা দিতে গেছে বলে স্বাক্ষর করেনি। অন্যদিন কাজ থাকলে আসে, না থাকলে দেখা যায় না। বারবার সতর্ক করা হলেও অনুষ্ঠান ছাড়া তারা পোষাক পরে না, এটা দুঃখজনক।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রাম পুলিশরা নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত না থেকে ওয়ারিশ সনদ, জন্ম নিবন্ধন ও সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবার নামে দালালির সঙ্গে জড়িত। টাকা দিলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাসায় পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

এমনই এক ঘটনায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনির হোসেন ওয়ারিশ সনদের জন্য সরাসরি টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ টাকা দফেদার ছাত্তারের মাধ্যমে দেওয়ার একটি কলরেকর্ড সংরক্ষিত আছে বলেও জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাপ্রার্থী জানান, চৌকিদার সুমন ও তার বাবা মফিজউদ্দিন পরিষদের পাশে থাকায় তারা সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। টাকা না দিলে সেবা পেতে বাধা দেয়।

অভিযোগকারী আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পুরনো মালামাল ও সরকারি গাছের ফল-ফসল তারা নিজেদের বাড়িতে নিয়ে ভোগ করছেন।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের ইউপি প্রশাসক ফরিদ আল সোহান বলেন, বিষয়টি জেনেছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!