ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

প্রশাসনিক সভায় হত্যা মামলার ৬ আসামি, জানেন না ইউএনও-ওসি

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১১:২৫ পিএম

প্রশাসনিক সভায় হত্যা মামলার ৬ আসামি, জানেন না ইউএনও-ওসি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলার পলাতক আসামি ছয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরকারি সভায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সভা শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুর রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় অংশ নেন ওই চেয়ারম্যানরা। এর আগে একই স্থানে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে ইউএনওর সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালে হত্যা মামলার একাধিক আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ছয় ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের নিচতলায় অবস্থান করছিলেন। পরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষ হলে তারা সমন্বয় সভায় যোগ দেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সভায় অংশ নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

সভায় উপস্থিত চেয়ারম্যানরা হলেন, হাইজাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলী হোসেন, বিশনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, উচিৎপুরা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইসমাইল হোসেন, খাগকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুল ইসলাম, মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান এবং কালাপাহাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা সবাই সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাঁদের নাম রয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর প্রকাশ্যে সরকারি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, হত্যা মামলার আসামিরা কোনোভাবেই সরকারি সভায় অংশ নিতে পারেন না। এটি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত চেয়ারম্যানদের মধ্যে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়জুল হক দুইবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তবে বাকি পাঁচ চেয়ারম্যান এখনো জামিনে নেই বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আড়াইহাজার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয় ইউনিয়নে এখনো আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, তারা হত্যা মামলার আসামি এ তথ্য আমার জানা ছিল না। বিষয়টি দুঃখজনক। মামলা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুর রহমান বলেন, তারা যে হত্যা মামলার আসামি, সেটি আমার জানা ছিল না। জন্ম ও মৃত্যু-নিবন্ধনের হার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভাটি ডাকা হয়েছিল। ভবিষ্যতে তাদের আর ডাকা হবে না।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!