ঢাকা   শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

গাজীপুরে পাঁচ খুন: ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

গাজীপুরে পাঁচ খুন: ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন। শিশুদের মরদেহ দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, বাচ্চাগুলোকে দেখে তার খুব কষ্ট লেগেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং এমন দৃশ্য তিনি আগে কখনও দেখেননি।

শনিবার (৯ মে) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সালমা খাতুন জানান, এ ঘটনায় দুজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসকও বিষয়টি অবগত আছেন এবং তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। সঙ্গে রয়েছেন দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে প্রতিবেশীদের চিৎকারে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

নিহতরা হলেন ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

পেশায় প্রাইভেটকারচালক ফুরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে। স্বজনদের দাবি, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং রসুল মিয়ার মরদেহ ছিল বিছানার ওপর।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোমল পানীয়র বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের পাশে কিছু প্রিন্ট করা কাগজও পাওয়া গেছে। সেগুলো থেকে জানা যায়, ফুরকান এর আগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র ও অন্যান্য আলামত যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফুরকান পলাতক রয়েছেন।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাস্থলে যায়। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!