মা দিবসে মায়েদের পা ধুয়ে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে শতাধিক শিক্ষার্থী। রোববার সকালে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের সেঁজুতি অঙ্গনে ভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্ব মা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
মায়েরা সংসারের নানা কাজে ব্যস্ততার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের স্নেহ-মমতায় লালন-পালন করছেন। তাদের মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই মা দিবসে এমন আয়োজন করা হয়েছে।
‘মা আশ্রয়ের একটাই ঠিকানা’ শিরোনামে একুশে পাঠচক্রের ১৩২তম আসরে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক শান্তি সাহা। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন পাহাড়ি জনপদে ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে ধাত্রী সেবামূলক কাজে জড়িত গুণী মা নূর জাহান। উপস্থাপনা করেন একুশে দ্যুতি ও চন্দ্রিকা দ্যুতি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মা দিবসের ধারাবাহিক দেয়ালিকা অক্ষরপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষানুরাগী আঞ্জুমান আরা বেগম। এরপর সারিবদ্ধ হয়ে বসা মায়েদের পা ধুয়ে দেয় শিশুরা। পরে মায়ের জন্য ভালোবাসার স্লোগান দিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে দেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। এ সময় মা নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন আগত অতিথিরা। সন্তানের কাছে এমন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মায়েরা। শিশুরাও আনন্দিত হয়।
মায়ের পা ধোয়া শেষে শিশু শিক্ষার্থী সাব্বির বলে, ‘আমি মাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। মা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করে। আমি যখন স্কুলে থাকি, মা তখন বাসায় থাকে। মাকে আমি খুব মিস করি। আজকে মাকে সারাদিন পেয়েছি। মায়ের পা ধুয়ে দিয়েছি। বন্ধুরা এক সঙ্গে অনেক মজা করেছি।’
তাসমেরী নামে একজন অভিভাবক বলেন, অনুষ্ঠানে এসে সন্তানের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পেয়ে সত্যিই আবেগাপ্লুত তিনি। ছোট থেকে শিশুদের যা শেখাবেন, বড় হয়ে তারা তাই করবে।
মাসিক ভাঁজপত্র কণ্ঠস্বর’র প্রধান সম্পাদক জয়জিৎ দত্ত শ্যামলের ভাষ্য, ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে এসে মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে। শিশুরা তাদের মায়ের পা ধুয়ে সম্মান দেখিয়ে ভালোবাসার বহির্প্রকাশ ঘটিয়েছে। এটা দেখে খুবই আবেগাপ্লুত তিনি। আজকাল প্রায়ই দেখা যায় সন্তানদের অবহেলায় বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হয়; যা খুবই বেদনাদায়ক। এ রকম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছোট থেকে মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মাসিক ভাঁজপত্র কণ্ঠস্বর’র সম্পাদক প্রভাষক স্বপ্না চক্রবর্তী, প্রেস ক্লাব নালিতাবাড়ীর সাবেক সহসভাপতি বিপ্লব দে কেটু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করেন।






