আসন্ন কুরবানি ঈদ সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে গরু চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এবারে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে রাতের আধারে গরু চুরি করতে গিয়ে আন্তঃজেলা গরু চোর সিন্ডিকেটের সদস্য নুরুল কবিরকে উত্তম মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ছাড়া পেয়ে স্থানীয় একটি প্রবাশালী মহলের ইন্ধনে ভূক্তভগীদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১১ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার সাবরাং মুন্ডারডেইল এলাকায় শাহেদ কামালের মালিকানাধীন গোয়াল ঘরে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নুরুল কবির ওই এলাকার আলী আহমদ উরুফে পাইল্লা চোরার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ফজল আহমদ জানান, নুরুল করিব সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই ও বন্ধু। তাকে চুরি না করার জন্য অনেকবার বুঝিয়েছি এমনকি ভালো হয়ে যাওয়ার জন্য টাকাপয়সা দিয়েও সাহায্য করেছি। গত তিন দিন আগেও আমার চাচার বাগান থেকে নারিকেল চুরি করেছে। এর আগে আমার নিজের পান বরজ থেকে পান চুরি করেছে। সে একজন চিহ্নিত চোর ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি। তার চুরির অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ট। তার ব্যাপারে এলাকা ও এলাকার বাহিরে বিভিন্ন সময় চুরির অভিযোগ রয়েছে।
গোয়াল ঘরের পাহারাদার মোহাম্মদ খালেদ জানান, রোববার সন্ধ্যায় গবাদী পশুগুলো তিনি গোয়াল ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে রাতে খাবার খেতে যান। খাবার খেয়ে আসার পথে নুরুল কবির একটি গরু হাতে বাগানের ভিতরের পথ দিয়ে যাওয়ার সময় গরুসহ তাকে আটক করে গোয়াল ঘরে নিয়ে আসেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাকে গরু চুরি করার জন্য মুন্ডার ডেইল এলাকার জনৈক মৌলভী সব্বির উরুফে গুটি সব্বির পাঠিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে তাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। যার একটি ভিডিও চিত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
এদিকে শাহেদ কামালের পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, ওইদিন রাতে স্থানীয় মেম্বার ছিদ্দিকের নির্দেশে তার বাহিনী নুরুল কবিরকে তুলে নিয়ে গিয়ে মৌলভী সব্বিরের নাম স্বীকার করার কারনে বেদম প্রহার করে। এতে চোর নুরুল কবিরের একটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। জোর করে সব্বিরের নাম স্বীকার করানো হয়েছে বলে একটি পাতানো ভিডিও ধারণ করে।
সেটি দিয়ে চোর নুরুল কবিরকে বাদী সাজিয়ে একটি সাজানো মামলার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও শাহেদ কামালের পরিবার।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ছিদ্দিক মেম্বারের মোটোফোনে কল করে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকান্ডের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছেন।






