কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে এক বিএনপি নেতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন করিমগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির।
তবে অভিযোগ উঠেছে, একটি অসাধু চক্র দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গোপনে মজুদ করে রাখে। নোয়াবাদ ইউনিয়নের বোর্ডবাজার এলাকার একটি পরিত্যক্ত দোকানঘরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নজরদারি শুরু হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ইউএনও উম্মে মুসলিমা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির।
অভিযানকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিত্যক্ত দোকানঘরটিতে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি ভিজিএফের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া চালগুলো গোপনে মজুদ করে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় প্রশাসন। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় এবং চাল মজুদের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান শুরু করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
চাল মজুদ ও আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নোয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মানিককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে হাজির করা হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সরকারি ভিজিএফের চাল এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে উদ্ধার হওয়া ৯ বস্তা ভিজিএফের চাল স্থানীয় করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এতিমখানা হাফেজিয়া মাদরাসায় এতিম শিশুদের খাবারের জন্য হস্তান্তর করেছে উপজেলা প্রশাসন।
করিমগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির বলেন, ইউএনওর নেতৃত্বে বুধবার দিবাগত রাতে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। তবে অপরাধী ব্যক্তির মূল পরিচয় তিনি একজন অপরাধী।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






