কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে যুবদল নেতার করা মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
তাদের অভিযোগ— পরিকল্পিতভাবে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেনকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৫টায় বাগমারা বাজার জামে মসজিদের সামনে আয়োজিত সমাবেশে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান জামায়াত নেতারা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেলগেটে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান, সেক্রেটারি ড. সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মো. ইয়াসিন আরাফাতসহ স্থানীয় নেতারা গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে মামলায় জামায়াত নেতাকে আসামি করার প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে লালমাই উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইমাম হোসেন বলেন, গত ১৯ মে রাতে পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করেন স্থানীয় জনতা। এ সময় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও আটক ও মারধর করা হয়। পরে আরিফ বিল্লাহ উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তিনি দাবি করেন, ঘটনার রাতে কামাল হোসেন শহরে অবস্থান করছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার রাতে আমি কুমিল্লা শহরের বাসায় ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেইনি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
অন্যদিকে, মামলার বাদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ বলেন, দলের পক্ষ থেকে যেসব নাম দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরে জানতে পারি কামাল হোসেনের নাম অন্যায়ভাবে যুক্ত হয়েছে। যদি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে আমিই তার পক্ষে দাঁড়াব।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েয়ে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে কাউকে নির্দোষ পাওয়া গেলে তার নাম বাদ দেওয়া হবে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






