পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে নৌপথে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। ব্যাগ-সামান হাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘাটে আসছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে ঘাট এলাকায় চলছে বিশেষ টহল কার্যক্রম। যাত্রীদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। প্রতিটি লঞ্চে চারজন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঈদের আগের পাঁচ দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়েও মাঠে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, স্কাউট ও আনসার সদস্যরা। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি, লঞ্চের বাইরে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
ঘাটে আসা নিজাম উদ্দিন জানান, সড়কপথের দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে নৌপথকেই বেশি স্বস্তিদায়ক মনে করি। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা হবে, এটি অন্যরকম অনুভূতি। বছরের দুটি ঈদ স্পেশাল।
আরেক যাত্রী রাইসা আক্তার জানান, প্রতিবছর ঈদের ছুটি পেলে দাদা দাদুর সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাই। তারা এই সময় আমাদের অপেক্ষায় থাকে। তাই ছুটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাদার বাড়ি চলে এসেছে। ঈদ করে কলেজ খোলার আগেই আবার ঢাকায় ফিরে যাবো।
তারেক নামের আরেকজন অভিযোগ করে বলেন, ঘাটে পৌঁছানোর পর সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন, যা আমাদের জন্য দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। তারা সুযোগ পেলেই বাড়তি ভাড়া আদায় করে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে কিছুক্ষণ ঠিক থাকে, আবার আগের মত হয়ে যায়।
বিআইডব্লিউটি’র উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, এবারের ঈদে চাঁদপুর নৌরুটে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় লঞ্চ চলাচল করবে। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরও ছয়টি অতিরিক্ত লঞ্চ। যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল ওয়ারীশ জানান, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লঞ্চঘাট চাঁদপুর নৌ টার্মিনাল। এই ঘাটের সব সময় জাতিদের চাপ থাকে। তবে ঈদকে ঘিরে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ঈদে যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারেন, এর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নৌ পুলিশ। ঘাট থেকে সব হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। হয়রানিসহ চুরি ছিনতাই বন্ধে ঘাটের ভিতরে এবং বাইরে নৌ পুলিশের টহল টিম নজরদারি রেখেছে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






