ঈদ-পরবর্তী সময়ে রাজধানীমুখী যাত্রীদের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। সড়কপথের এই ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন নৌপথ। যমুনা নদী পেরিয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুর হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছেন শত শত মানুষ।
আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে ১১টায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর নৌঘাটে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা ব্যাগপত্র নিয়ে নৌকায় উঠছেন। অনেকেই পরিবারসহ রাজধানীতে ফিরছেন।
ঢাকাগামী যাত্রী গোলজার হোসেন বলেন, সড়কে দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তির কারণে তিনি পরিবার নিয়ে নৌপথে যাত্রা করছেন। তার মতে, সময় কিছুটা বেশি লাগলেও যানজটে আটকে থাকার চেয়ে এটি সুবিধাজনক। তবে অতিরিক্ত যাত্রী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।
আরেক যাত্রী আকাশ জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে মহাসড়কের যানজটের খবর দেখে তিনি বিকল্প পথে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চৌহালীর পশ্চিম কোদালিয়া এলাকার বাসিন্দা আবুল খায়ের মিয়া বলেন, নৌপথ তুলনামূলক সহজ হলেও ঝুঁকিমুক্ত নয়। বৈরী আবহাওয়া এবং অধিকাংশ নৌকায় লাইফ জ্যাকেট না থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে ঘাটে যাত্রীচাপ ক্রমাগত বাড়ছে। প্রতিটি নৌকায় গড়ে শতাধিক যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। অনেক যাত্রী মালপত্র নিয়েও নদী পার হচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ নৌকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেখা যায়নি।
নৌকার মাঝিরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের কারণে যাত্রীসংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। মাঝি হৃদয় বলেন, ঈদ-পরবর্তী চাপ এখনো কমেনি, প্রতিটি ট্রিপেই প্রচুর যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে।
এদিকে যমুনার পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও ধীরগতিতে যান চলাচল করতে দেখা গেছে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, রাতের দিকে কিছুটা যানজট থাকলেও বর্তমানে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের কড্ডারমোড় এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।






