ঢাকা   রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাটচাষির মুখে

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাটচাষির মুখে

চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ব্যস্ততা। তবে ভালো ফলনের আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে বাজারদর নিয়ে অনিশ্চয়তায়।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকার আগাম মূল্য নির্ধারণ না করায় তারা দালাল ও ফড়িয়াদের কাছে কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আগাম সরকারি মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাটচাষি রিপন মিয়া বলেন, ‘তিন কানি (৯০ শতাংশ) জমিতে পাট চাষ করতে প্রতি কানিতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বিক্রির সময় ন্যায্য দাম পাই না। সরকার যদি আগে থেকেই পাটের একটি ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করে দিত, তাহলে সেই দামে পাট বিক্রি করতে পারতাম। আমাদের দাবি, সরকার আগাম মূল্য নির্ধারণ করে দিক।’

কৃষকরা জানান, প্রতি বছর সার, বীজ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও পাটের দাম সে অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক কৃষক ধীরে ধীরে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

হাওর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় ‘সোনালি আঁশ’খ্যাত পাট ছিল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানি পণ্য। সময়ের সঙ্গে সেই জৌলুস কিছুটা কমে গেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকেরা এখনো ঐতিহ্য ধরে রেখে পাট চাষ করে আসছেন। এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও হয়েছে আশানুরূপ।

পাটচাষি ওসমান মিয়া বলেন, ‘এক কানি (৩০ শতাংশ) জমিতে পাট চাষে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। শুধু পাট কাটার শ্রমিককেই প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তার অভিযোগ, অনেক কৃষক বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় কম দামে পাট বিক্রি করে দেন। পরে ফড়িয়ারা সেই পাট গুদামজাত করে বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হন, অথচ প্রকৃত উৎপাদক কৃষক লাভের মুখ দেখেন না।

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আগাম প্রতি মণের একটি ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে প্রান্তিক কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার নাসিরনগর, সরাইল, বিজয়নগর, নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মোট ৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে দেশি, তোষা, কেনাফ ও মেস্তা জাতের পাটের আবাদ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদরও সন্তোষজনক থাকবে বলে আশা করছি। চলতি মৌসুমে উৎপাদিত পাটের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।’

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবু বকর জানান, পাটের ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণে তাদের বিভাগ ‘অন দ্য জব’ নামে ১১ দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এতে পাটজাত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যারা পাট নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে চান, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি বিদেশে রফতানির সুযোগও সৃষ্টি হবে।’

যদিও সরকারি কর্মকর্তারা বাজার নিয়ে আশাবাদী, তবু মাঠের কৃষকদের প্রত্যাশা একটাই—উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। তাদের দাবি, আগাম ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হলে দালালনির্ভর বাজার ব্যবস্থার বাইরে এসে প্রকৃত উৎপাদকই তার পরিশ্রমের ন্যায্য প্রতিদান পাবেন।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন