সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার একটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্দা পালনের কারণে এক পরীক্ষার্থীকে মানসিকভাবে হেনস্তা এবং শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর স্বামী মো. রাকিবুল হাসান সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোছা. শিফা খাতুন (রোল: ১২১৭৩১) কাজীপুর-৩ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী এবং তিনি নিয়মিত পর্দানশীল মুসলিম নারী।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের মূল ফটকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী শিক্ষক নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি শেষে তাকে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেন। তবে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের পর দায়িত্বরত শিক্ষক তাকে হিজাব খুলে কান দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি পুরুষ শিক্ষকের সামনে পর্দা অপসারণে অপারগতা প্রকাশ করে একজন নারী শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের অনুরোধ জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই অনুরোধের পর তাকে প্রকাশ্যে তিরস্কার, গালিগালাজ ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এমনকি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের সময় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটও পর্দা অপসারণ না করলে পরীক্ষা দিতে পারবেন না বলে সতর্ক করেন। একপর্যায়ে মানসিক চাপের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার করে তিনি সেদিনের পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত পরবর্তী পরীক্ষার দিনও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন ওই পরীক্ষার্থী। নারী শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পর্দা খুলতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে এ ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা অধিকারের পরিপন্থী উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন রক্ষায় কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব নুরুল আমিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায় নাই ।
আলহাজ ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের আবুল কালাম আজাদ জানান পরীক্ষার কেন্দ্রে কি হলো সেটা আমার দেখার বিষয় না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন,আবেদন পেয়েছি বিষয়টা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
বার্তা বাজার/এস এইচ






