রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল বাঘা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই দিন সকাল ১০টায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ (খানা গণনা) কার্যক্রমের জন্য নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার সময় তাদের স্মার্টফোনে তিনটি অ্যাপ ডাউনলোড করে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে বলা হয়। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্র উপজেলা মডেল মসজিদের ভূগর্ভস্থ (আন্ডারগ্রাউন্ড) স্থানে হওয়ায় মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ কার্যকর ছিল না। এতে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেননি।
পরীক্ষা শেষে বিকেল ৩টায় ফলাফল প্রকাশ এবং সাড়ে ৩ টা ৩০ মিনিটে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। তারা অভিযোগ করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সুপারিশকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পরে তারা ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন এবং তার অপসারণের দাবি জানান।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল হাসান বাবলু, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম সরকার, বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, বাজুবাঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ রঞ্জু, মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন রিয়েল, চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু সিকদার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী সেলিনা আক্তার শাপলাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, “এই ইউএনও স্বৈরাচারী মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। বিগত সরকারের ধারা তিনি এখনো বহন করছেন। বাঘাবাসীর জন্য তিনি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।”
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম সরকার বলেন, “আমরা অবিলম্বে এই ইউএনওর পদত্যাগ চাই। তিনি কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তবে এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাইনা।






