বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ-দুর্নীতি, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতীতের বদলির আদেশও শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। ফলে বিভাগীয় কার্যালয়ে ভয়ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
তথ্যনুযায়, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলের উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যাবহার করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশালের বিভাগীয় উপ-পরিচালক। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা আর পাঁচ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এক অদৃশ্য শক্তির দাপটে একইভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা করে যাচ্ছেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও কর্ণপাত করেন না এই কর্মকর্তা। মহা ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা হলেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিন।
খবর নিয়ে জানা যায়, স্বৈরাচার হাসিনার আমলে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আবু আব্দুল্লাহেল কাফীর স্ত্রী নিলুফার ইয়সামিন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা স্বামীর প্রভাবে দুর্নীতি-অপকর্ম ও অনিয়ম করা যেন নিয়মে পরিণত করেছিলেন তিনি। স্বামীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন।
সরকারি গেস্ট হাউজে পারিবারিক বসবাসের অভিযোগ, রয়েছে আরও অপকর্ম
নিলুফার ইয়াসমিন তিনি অফিস ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত গেস্ট হাউজে পরিবার নিয়ে ১ বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। সেখানে মিটিং রুম থেকে ২টি এসি খুলে সেট করেছেন। এরজন্য প্রতি মাসে প্রচুর বিদ্যুত বিল সরকারিভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি গেস্ট হাউস ব্যবহারের ফলে ঢাকা থেকে আসা অতিথি এবং বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণে বা সভায় অংশগ্রহণের জন্য আসা কর্মকর্তাগণ নিজস্ব গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেলে বা অন্য কোন দপ্তরের গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে বাধ্য হন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট অনুজ কুমার, সহকারি পরিচালক কবির উদ্দিন, এনামুল হক, ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান সম্প্রতি ধান গবেষণার রেস্ট হাউজে এবং নিরঞ্জন রায় পাবলিক হেলথ এর রেস্ট হাউজে অধিদপ্তরের কাজে গিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পুরো পরিবার নিয়ে কোয়ার্টারের মতো বসবাস করলেও অদ্যাবধি কোন ভাড়া পরিশোধ করেননি।
মানতেন না অফিস সময়সূচী
পবিত্র রমজান মাস বাদে সরকারি অফিস টাইম সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা হলেও নিলুফার ইয়সামিন রেস্ট হাউজ থেকে অফিস কক্ষে নামেন দুপুর ১২ টায় এবং আবার রেস্ট হাউজে ফিরে যান দুপুর ১ টায়। এরপর বিকেল চার টায় অফিসে এসে রাত ৭ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত অফিস করেন তিনি।
অফিসে আসা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ‘আমি বিভাগীয় অফিসে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। তিনি যখন রেস্ট হাউজ থেকে অফিসে আসেন তখন স্বাক্ষাৎ পাওয়া যায় না নামলে সাক্ষাৎ না করেই ফিরে যেতে হয়।’ এদিকে একজন মহিলা কর্মকর্তার সঙ্গে রাত ৮ টা পর্যন্ত অফিস সময়ের পরে অফিস কক্ষে অবস্থান করা সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর জন্য বিব্রতকর ও বিরক্তিকর হলেও তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেন না। অনেকেই কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি সময় মতো অফিসে থাকেন না বিধায় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।
আর্থিক অনিয়ম ছিলো বেশ কয়েকটি
২০২২-২৩ অর্থ বছরের অফিস আনুষাঙ্গিক ও অন্যান্য বরাদ্দ বাবদ অফিসের কোন মালামাল ক্রয় করা না হলেও ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। একই অর্থ বছরে অফিসের রুটিন মেইনটেনেন্সের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকার কোন কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।
২০২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যোগদানের পর থেকে যত প্রশিক্ষণ হয়েছে তাতে যে ভেন্যু ভাড়া বাবদ বরাদ্দ ছিল তা তিনি পরিশোধ না করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন । ২০২২ সাল থেকে সকল প্রশিক্ষণ পিটিআইতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোন ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। । এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামে স্বয়ং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। প্রোগ্রামটি পিটিআইয়ের একটি সাধারণ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রোগ্রামটির ৩০ হাজার টাকা ভেন্যু ভাড়া ছিল। এর পুরোটাই তিনি খরচ না করে আত্মসাৎ করছেন। প্রোগ্রামটিতে প্রশাসনিক ব্যয় ৩৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তিনি ৮০০০ টাকা ব্যয় দেখিয়ে এসওই দাখিল করেছেন । এখানে ৫০০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রোগ্রামটিতে ডিপিইও কে সভাপতি এবং ডিডি অফিসের শিক্ষা অফিসারকে কোর্স সমন্বয়ক করার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা না করে নিজে সভাপতি এবং ডিপিইওকে কোর্স সমন্বয়ক করে সম্মানী বিতরণ করেছেন। তিনি শিক্ষা অফিসারকে কোন সম্মানী প্রদান করেননি।
ঘুষ ছাড়া ফাইল না দেওয়ার অভিযোগ
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কোন অনুষ্ঠান করা না হলেও বরাদ্দের সব টাকা আত্মসাত করেছেন। শিক্ষা পদক সংক্রান্ত বিভাগীয় বাছাই সম্পন্ন করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদ ও পুরস্কার বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা না করে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে কম্পিউটার থেকে সনদপত্র প্রিন্ট করে প্রদান করেছেন। কোন অনুষ্ঠান করেননি। প্রথম স্থান অধিকারীদের কেউ কেউ অফিসে এসে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা অফিস থেকে সনদ সংগ্রহ করেছেন। অনুষ্ঠান না করেও বিল করে করেছেন অর্থ আত্মসাৎ।
২০২২ ও ২০২৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ঢাকায় উপস্থিত না থেকেও ঢাকা ভ্রমণের জন্য টিএ বিল উত্তোলন করেন। ২০২২ সালে ১৫ দিন শ্রান্তি বিনোদন ছুটির সাথে অবৈধভাবে আরো প্রায় ১৫ দিন অফিস করেননি। এক মাস অফিসের গাড়ীটি না চললেও ঐ মাসে জ্বালানী বাবদ সমুদয় অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।
সরকারি অফিসকে পারিবারিক সম্পত্তিরুপে ব্যবহার :
অফিসের গাড়িটি তিনি তার ছেলে-মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ বার তার ছেলে-মেয়েকে স্কুলে ও কোচিং এ আনা নেওয়া করা হয় এবং সরকারি অফিসের এই গাড়ির চালককে এসব কাজে বাধ্য করেন তিনি। কোন জেলা বা উপজেলায় পরিদর্শনে গেলে পিটিআই বা ডিপিইও অফিসের গাড়ি ব্যবহার করেন। অথচ জ্বালানী তেল পুরাটাই উত্তোলন করে খরচ দেখান। গত ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেছারাবাদ উপজেলা পরিদর্শণের জন্য ঐ শিক্ষা অফিসারকে দিয়ে গাড়ি ভাড়া করিয়েছেন।
তিনি অফিসের ২ জন অফিস সহায়ক, নৈশ প্রহরী, পরিচ্ছন্ন কর্মী, চালক এবং অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমকে তার ছেলে মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়া এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখেন বিধায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় । তিনি তার ব্যক্তিগত হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য দরিদ্র পরিচ্ছন্ন কর্মী আকলিমা বেগম এর বেতন আটকিয়ে রেখে তাকে মোবাইল ফোন কিনতে বাধ্য করেছেন যাতে তিনি ডাকা মাত্র তার ডাকে সাড়া দিতে পারেন। আকলিমাকে দিয়ে ব্যক্তিগত যাবতীয় গৃহস্থলির কাজ করান। সকাল ৮/৯ টা থেকে রাত ৯/১০ টা পর্যন্ত তাকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করান বিধায় আকলিমা বেগম অফিসের নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজ করার সময় পায় না।
বরিশাল সদরের কিশোর মজলিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আল মামুনকে স্কুল চলাকালীন সময়ে অফিসের গেস্ট হাউজে এসে তার ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন তিনি। ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জায়েদা সহ অন্যদের প্রবল আপত্তির জন্য বর্তমানে স্কুল সময়ে আসা বন্ধ হয়েছে। আপত্তির কারণে জায়েদা চরম রোষানলে পড়েছেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করা হয়েছে।
টাকা ছাড়া মেলেনা সেবা :
প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের পাসপোর্ট তৈরি ও নবায়নে এনওসি প্রদান, শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর, উচ্চতর স্কেল প্রদানসহ যে সকল কাজ বিভাগীয় অফিস থেকে করতে হয় তার প্রত্যেকটি কাজে অর্থ না দিলে কোনো ফাইল তিনি ছাড়েন না। টাকা ছাড়া ফাইল স্বাক্ষর হয়না বিভাগীয় এই অফিসে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্ধগড় বেতনে এবং বিনা বিতনে ছুটি পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পারিবারিক প্রয়োজনে এক মাসের ছুটির আবেদন করি। তবে ছুটি না পাওয়ায় প্রথমে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তা আমাকে বিভাগীয় অফিসে কথা বলতে বলেন। অফিসে কথা বলে বুঝতে পারি টাকা ছাড়া এখানে কিছু করা সম্ভব নয়। পরে বাধ্য হয়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আমি ছুটি মঞ্জুর করি।
অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই চলে শোকজ, বিভাগীয় মামলার ভয় এবং এসিআর খারাপ করে দেওয়ার হুমকি:
নিলুফার ইয়াসমিন অতি সাধারণ বিষয়েও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের শোকজ করার এবং বিভাগীয় মামলার ভয় দেখিয়ে ধমক দেন। ভবিষ্যতে এসিআর খারাপ দেয়ার ভয় দেখান। শোকজ এবং বিভাগীয় মামলা ও এসিআর খারাপের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনা।
অফিসের যাবতীয় নথি শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে উপাস্থাপন করার বিধান থাকলেও তিনি তা মানেন না। তিনি খেয়াল খুশি মতো নথি ছাড়াই অনেক প্রশাসনিক ও আর্থিক কাজ করে থাকেন। কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিসার বাইরে আছেন লিখিয়ে নথি উপাস্থাপন করতে বলেন। অফিস সহকারি শাহ আলমকে শিক্ষা অফিসারকে বাদ দিয়ে সরাসরি ফাইল উপাস্থাপন করতে বলেন। শাহ আলম তাই করে থাকে।
বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় :
নিলুফা ইয়সামিন তার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে উৎকোচ ও উপঢৌকন গ্রহণ করেন। শাহ আলম জেলা ও উপজেলা অফিসে ফোন করে জানান যে, তাকে ছাড়া ম্যাডাম অন্য কাউকে বিশ্বাস করেন না। তাই সকলকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কর্মচারীদের কর্মকাল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা শাহ আলমের নিকট দিয়েছেন। শাহ আলম ঐ তালিকা দেখে দেখে বেশিদিন কর্মকাল হয়েছে এমন কর্মচারীদের ফোন করে বদলীর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। শাহ আলমের কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করলে তিনি কোন কর্ণপাত করেননা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে অন্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের বঞ্চিত করে শাহ আলমকে ১৪ হাজার ৫০৬ টাকার টিএ বিল দিয়েছেন। তার প্রশ্রয়ের কারণে শাহ আলম সবাইকে হুমকী দিয়ে কথা বলেন।
কর্মচারী বদলির ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নীতির তোয়ক্কা করেন না। প্রশাসনিক কারণে আবুল কালামকে দশমিনা থেকে রাজাপুর বদলী করে আবার ৪ মাস পর শাহ আলমের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নিয়ে তাকে বাউফল উপজেলায় বদলী করা হয়। সম্প্রতি ৪ জন টেকনিক্যাল ক্যাটাগরি সহ ৬ জনকে জনস্বার্থে বদলি করা হয়। এর মধ্যে একই দপ্তরের ২ জনকে একত্রে অন্যত্র বদলি করা হয়, যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ ছিলনা। এতে ঐ দপ্তরে কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সমন্বিত বদলি নির্দেশিকা ২০২৩ এ মহাপরিচালকের অনুমোদন গ্রহণের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি কোন ফাইল নোট ও দেয়া হয়নি।
সাটলিপিকার মো: আরিফ হোসেন বিগত ৪/৫ মাস পূর্বে অবসর গ্রহণ করলেও তার কাজ অফিসের অন্য কাউকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। তিনি বিভাগীয় মামলা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি এখনও তার দখলে রেখেছেন। তার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় সহজ হয় বলে এখনো তাকে দিয়ে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হয়। শাহ আলমের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায় নিশ্চিত হলে তাকে ফোন করে অফিসে আনা হয়। সে নথি তৈরি করে দিলে শাহ আলমের মাধ্যমে উপ¯’াপন করে তা নিষ্পন্ন করা হয়।
একাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় অফিসে জিম্মি। যখন নিলুফা ইয়াসমিনের বদলির আদেশ হলো তখন আমরা ভেবেছিলাম এই জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেলাম। পরবর্তী দেখলাম সেই আদেশ বাতিল হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতন হলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। এই কালো টাকার সিস্টেম বদলাবে। কিন্তু তা না আমাদের ভাগ্যের আর বদল হলো না। বিভাগীয় অফিসেই আমরা জিম্মি হয়ে থাকতে হচ্ছে।
ডেপুটেশন বানিজ্য:
মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মোস্তফা কামাল শিক্ষকদের সুবিধা মতো ডেপুটেশনের মাধ্যমে বদলী করা হয়। গত ২৪/০৬/২০২৬ ইং তারিখে ৮ জন শিক্ষকের ডেপুটেশন বদলীর চিঠি যাহার স্মারক নং-জেপ্রাশিঅ/বরি/১০৭০ প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের এসব কাজে সহায়তা করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জাবের ও শিক্ষক নেতা ভাটিখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তারিকুল ইসলাম পলিন্স, ১৯১ নং কিশোর মজলিস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস আলী খান, মো: আনোয়ার হোসেন।
বদলির আদেশ জারি হলেও কার্যকর হলো না
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ পরে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ২ অক্টোবর ২০২৪ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিলুফার ইয়াসমিনকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হলেও মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ কর্ণপাত না করে প্রাথমিকের বরিশাল বিভাগীয় অফিসেই কর্মরত থাকেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত না হওয়ায় গত ৯ অক্টোবর ২০২৪ তাকে বরিশাল বিভাগীয় অফিস থেকে কর্মবিমুক্ত (রিলিজ) করে অফিস আদেশ জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশ অমান্য করে এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বর্তমান কর্মস্থল থেকেই তিনি মন্ত্রণালয়ের ২ অক্টোবর ২০২৪ তার বদলির আদেশ বাতিল করিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করান। শত অভিযোগ থাকা এই কর্মকর্তার বদলিতে বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলেও বদলি বাতিল হওয়ায় হতাশ হন তারা।
তবে এতকিছুর পরেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে একাধিকবার কল করলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নিলুফার ইয়সামিনও কল এড়িয়ে যান।






