জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ বুধবার দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে যোগ দিয়ে বললেন, তারেক রহমান বাংলাদেশে ভালো কিছু দিতে পারবেন না। তারেক রহমানের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, ভবিষ্যৎ কেবল বাংলাদেশের জনগণের। তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন না, তার পতন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার মতোই জনগণ তার বিচার করবে; এখানে কোনো নেগোসিয়েশন (আপস) হবে না। বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেই আমরা এগিয়ে যাব।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেদিন বেলা তখন ১২টা। সকাল থেকেই পুরো বাংলাদেশ স্তব্ধ হয়ে ছিল। চারদিকে সেনাবাহিনী করিডোর দিয়ে রেখেছিল। আমি ও নাহিদ একটি বাসায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম। সকালবেলা আমরা বাইরে বের হতে চাইলে আমাদের সতর্ক করে বলা হয়, বের হলেই গুলি করা হবে। পরিস্থিতি বুঝতে আমরা বাসার নিচের একজন শিক্ষককে পাঠালাম। তিনি নিচে দেখে এসে জানালেন, বাইরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। সেদিন সকালে আমাদের অনেক ভাই শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলার জাগ্রত জনতা সব বাধা-ব্যারিকেড ভেঙে রাজপথে নেমে আসেন। শেখ হাসিনাকে পাঁচ মিনিটের সময় দেওয়া হয়েছিল, হয় তিনি বাংলাদেশে জীবন দেবেন, না হয় ভারতে পালাবেন।
এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, সেই সময় তারেক রহমান বাংলাদেশে ছিলেন না। বাংলাদেশে ছিলেন কৃষক, মজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ, গৃহিণী, আলেম এবং ছাত্ররা। তারেক রহমানের কোনো ছায়া আমরা সেদিন রাজপথে দেখিনি। এখন নতুন করে বাংলাদেশে এসে সব বোঝার আগেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেছেন। আমরা বলেছি, আপনাকে ক্ষমতায় থাকতে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলার জনগণের রায় না মানার কারণে পাকিস্তানি জান্তাদের যে পরিস্থিতি হয়েছিল, আপনার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার আপনার নয়, এটা বাংলাদেশের জনগণের।
পাটওয়ারী বলেন, এক ব্যক্তি তাজমহল প্রায় একশত বার বিক্রি করেছিল। কিন্তু তাজমহলের মালিকানা কি কেউ নিতে পেরেছে? না। তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ভারত থেকে শুরু করে অনেক ‘ডিপ স্টেট’-এর কাছে তাজমহলের মতো বাংলাদেশকে বিক্রি করেছেন। এখন সবাই তার কাছে পাওনা চাইছে। কিন্তু বাংলাদেশের মালিকানা তারেক রহমানের নয়, বাংলাদেশের মালিকানা এ দেশের জনগণের। ক্ষমতার লোভে যদি কেউ বাংলাদেশের মাটি, বায়ু, পানি অন্য কোনো রাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করতে চায়, তবে আমরা রাজপথে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার যেন চাঁদাবাজদের হাতে না যায়, এ কথা বলার পর রামদা, চাপাতি ও হকিস্টিক নিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামলা করেছে। হবিগঞ্জে আমরা চিকিৎসা নিতে পারিনি, হাসপাতালে গিয়ে হামলা করা হয়েছে। ঢাকাতেও হাসপাতালে আক্রমণ করা হয়েছে, চিকিৎসা নিতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের সন্ত্রাসী দল ছাত্রদল-যুবদল, আজ তোমাদের বলব, তোমরা কোথায়? আজ রাজপথে দেখা যাচ্ছে না কেন? বাসায় ঘুমিয়ে আছো, নাকি পালিয়ে গেছ? পালানোর জায়গা পাবে না। জনতা জেগে উঠেছে।






