জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বক্তব্য শুরু করতেই ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমার বক্তব্যের শুরুতেই আপনারা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এটাকে আমি স্বাগত জানাই। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এই যে আপনাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার স্বাধীনতা, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। আজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে জুলাইযোদ্ধা ও শহীদদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষে এই আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আজকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত হওয়ার পরে দেখি, এনসিপি নেতাকর্মীরা ডকুমেন্টারি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। এসময় আমি এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করি। যেহেতু আজকের আয়োজনটা ছিল সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান।
রাশেদ খাঁন বলেন, এরপর মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করি। ডকুমেন্টারিতে ভুলের জন্য মাননীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং ডকুমেন্টারিটি সংশোধনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তারপর আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মিয়া গোলাম পরোয়ার ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে তাঁদের বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে সংক্ষুব্ধতা বা অভিযোগ ব্যক্ত করার সুযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি।
তিনি বলেন, তাঁরা মঞ্চে গিয়ে তাঁদের বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁদের বক্তব্যের সময় আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে তাঁদের বক্তব্যের সময় কোনো ব্যক্তি বা জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তাঁদের বিব্রত না করে (যা কয়েকদিন আগে এনসিপির দলীয় কর্মসূচিতেই হয়েছে!)। হ্যাঁ, সেটিই হয়েছে। বক্তব্যের সময় তাঁদের বিব্রত হতে হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, তবে জামায়াত ও এনসিপির কিছু নেতাকর্মী আমার বক্তব্যের সময় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আমি তাঁদের এই প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছি। আমি মনে করি, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই সমালোচনা, আলোচনা। কিন্তু সার্বজনীন কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে কতটুকু হট্টগোল করা যাবে, আর কতটুকু নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে, সেটাও স্বাভাবিক সেন্সের ব্যাপার। আমি এতটুকুতেই সন্তুষ্ট যে, তাঁদের অন্তত আমরা অসম্মানিত হতে দিইনি এবং তাঁদের অনুভূতি তাঁরা ব্যক্ত করার যথাযথ সুযোগ পেয়েছেন।






