ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত থেমে থেমে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামের লোকজনদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদেরকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম জানা যায়নি।
এর আগে (৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে একই বিরোধের জেরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। ওই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পূর্ববিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টিয়ারা গ্রামের শিশু মিয়া ও আবুল হোসেন চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন দুই পক্ষ টেঁটা ও বল্লম নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায়। ওই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। ওই সংঘর্ষে গুরুতর আহত টিয়ারা গ্রামের আবুল খায়ের মিয়ার ছেলে ইকবাল মিয়া (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তবে তার মৃত্যু নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে।
এক পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে আহত হয়ে ইকবাল মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। অন্য পক্ষের দাবি, মাদকের টাকা নিয়ে পারিবারিক মারামারিতে আহত হয়ে তিনি মারা যান।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ২ জুনের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার দুই পক্ষের আসামিরা জামিনে বের হয়ে আবারো সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা দাঙ্গায় জড়াবেন না এমন অঙ্গীকারনামা উভয় পক্ষ থানায় দেওয়ার পরও তারা ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নবীনগর থানার ওসি মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এলাকায় যাতে পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে






