স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল কুষ্টিয়ার পেট জোড়া লাগানো দুই শিশুকে দেখতে গিয়েছেন। সেই সঙ্গে শিশুদের একজন থেকে আরেকজনকে অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা করার চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান তিনি। এসময় শিশু দু’টির চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন মন্ত্রী।
জানা গেছে, ৯৬ দিন আগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করে শিশু দু’টি। পরে চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে বাড়িতে নিয়ে যায় শিশুদের পরিবার।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে শিশু দু’টিকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন। পরে কুষ্টিয়া থেকে মেডিকেলে নিয়ে আসেন শিশুর অভিভাবকরা।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পত্রিকায় এসেছে, একটা গরিব বাবা-মার দুইটা জোড়া লাগা মেয়ে সন্তান হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে তাদের চিকিৎসা করার মতো খরচ বহন করতে পারছিল না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গতকাল তাদের বাবার সঙ্গে আমি টেলিফোনে যোগাযোগ করি এবং এখানে নিয়ে আসতে বলি।’
তিনি বলেন, ‘আমার সেই অনুরোধে এখানে নিয়ে এসেছে এবং আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে, ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করাবো। আমাদের যত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন, প্রয়োজনে বাইরে থেকে চিকিৎসক নিয়ে বোর্ড গঠন করে বাচ্চা দুইটাকে আমরা চিকিৎসা সেবা দেব, যাতে করে আল্লাহ শিশু দুটিকে বাঁচিয়ে রাখেন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিশু দুটি খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করবে হাসপাতাল। আমরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখব এবং চিকিৎসার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
এসময় শিশু দুটির পরিবারকে কিছু আর্থিক অনুদান তুলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
শিশুদের বাবা নাহিদ হোসেন বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই তার শিশু ২টি মারাত্মক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। অভাব-অনটনের কারণে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও দুধের খরচ চালানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নজরে আসলে তারা বাড়িতে গিয়ে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে খবর প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারিত সেই সংবাদ নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরাসরি ফোনে নাহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন এবং শিশুর চিকিৎসার সব দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাস দেন। সরকারের এমন সরাসরি পদক্ষেপে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শিশুটির পরিবার।’






